এ ছবি নতুন পথের দিশারী--অপূর্ব দাস - Review by eminent journalist Apurba Das on "Death Certificate".

   2d8on0j                                                                                                 

রাজাদিত্য বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম ফিচার ফিল্ম ‘ডেথ সার্টিফিকেট’ মুগ্ধ করেছে। আদতে নাট্যকর্মী রাজার প্রয়াস বাঙালি দর্শকদের অবশ্যই একঘেয়েমির হাত থেকে মুক্তি দেব। বাংলা ছবির গতানুগতিকতা থেকে বেরিয়ে এসে দর্শকদের মুক্তির স্বাদ এনে দিতে চেয়েছেন। নিজস্ব একটি ঘরানা তৈরি করার চেষ্টা করেছেন। প্রচলিত পথে হাঁটতে চাননি। এ ছবির গল্পকার দেবাশিষ বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেও ছিলেন তথ্যচিত্র নির্মাতা এবং গবেষক দেবাশিসবাবুর এই গল্পটিকে সুন্দর চিত্রনাট্য এবং সংলাপের মাধ্যমে পরিচালক রাজাদিত্য ‘ডেথ সার্টিফিকেট’ ছবিটিকে এক অন্যমাত্রায় নিয়ে গেছেন। তবে শুধু পরিচালক, চিত্রনাট্যকার এবং সংলাপ রচয়িতা নয়, অভিনেতা হিসাবেও তিনি দূরন্ত কাজ করেছেন। দীপমালা সেনগুপ্ত এবং প্রদীপ ভট্টাচার্য্যও প্রাণবন্ত অভিনয় করেছেন। ভূপেন পাণ্ডেওও যথাযথ।

এই ছবির মাধ্যমে রাজাদিত্য একটি বার্তা দিতে চেয়েছেন। সেটা হল মৃত্যু নিয়ে আমাদের ভাবনা। সাধারণ মানুষ মনে করেন মৃত্যু হল জীবনের সবচেয়ে বড় ক্ষতি। পরিচালক বলতে চেয়েছেন জীবনটাই মানুষের অস্থায়ী ঠিকানা। আর তার কাজটাই হল স্থায়ী পরিচয়। তাই মানুষের মৃত্যুতে সবকিছু থেমে যায় না। মানুষের জীবদসশায় তার ভিতরবার চিরন্তন সত্ত্বাগুলির মৃত্যুই সবচেয়ে বড় ক্ষতি। এছবির মূল বক্তব্য তাই মানুষের মন ছুঁইয়ে যাবে। তাই প্রচলিত বাংলা ছবির স্তূপে ‘ডেথ সার্টিফিকেট’ এক উজ্জ্বল ব্যতিক্রম। এই উজ্জ্বলতার দ্যুতি অবশ্য ছড়িয়ে পড়বে। আসলে সিনেমা তো তৈরি করা যায় না। একটার পর একটা ইঁট গেঁথে এটা নির্মাণ করতে হয়। রাজাদিত্য সেটাই করে দেখিয়ে দিয়েছেন। ৭১ মিনিটের এই ছবিটির প্রতিটি অংশে পরিচালক দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। ডেথ সার্টিফিকেট ছবিতে একজন স্ত্রীর-র অন্তহীন অনুসন্ধানের কথা সুচারুভাবে তুলে ধরা হয়েছে। স্ত্রী সাবিত্রী তার নিখোঁজ রামলখন’কে খুঁজতে বেরিয়েছেন। সাবিত্রী নেহাতই এক গ্রাম্য মহিলা। আমাদের জটিল বিশ্ব তার কাছে একেবারেই অচেনা। সাবিত্রীর এই যাত্রা ফুটে ওঠে বাস্তব বন্ধুর পৃথিবীর বাস্তব মাটিতে।

সাবিত্রীর স্বামী রামলখন একটি স্টেশনে জলবাহকের কাজ করত। একদিন রাতে সে আর ঘরে ফিরল না। উদ্বিগ্ন স্ত্রী স্বামীর খোঁজে তারই বন্ধু শিবু ও দাদুকে নিয়ে বেরিয়ে পড়ে। এ ছবির প্রধান বক্তব্য মানুষের শেশ পরিচয় কী? একটা ডেথ সার্টিফিকেটের ভিতরেই কী তার অস্তিত্বের প্রমাণ থেকে যায়? চারপাশে বাংলা সিনেমা নিয়ে অনেক বোদ্ধাই বড়বড় কথা বলেন। কিন্তু এরই মাঝে রাজাদিত্যের এই ছবি।

এক উজ্জ্বল ব্যতিক্রম। আসলে পরিচালক এই ছবি নির্মাণের ক্ষেত্রে সত্যনিষ্ঠ হয়েছেন। এ ছবির প্রতি পদক্ষেপে রয়েছে সত্যানুসন্ধান। আমাদের সমাজে সাবিত্রীর মতো নারীরা রয়েছে চার পাশে। আসলে পরিচালক সুন্দরভাবে গল্পটিকে উপস্থাপন করেছেন। এখানেই তাঁর মুন্সিয়ানা। তিনি দেখিয়ে দিয়েছেন কেমন করে গল্প বলতে হয়। এ ছবির আরেকটি প্লাসপয়েন্ট হল ক্যামেরার কাজ। এরকম একটা চমৎকার ছবি দর্শকদের উপহার দেওয়ার জন্য পরিচালকের অবশ্যই প্রশংসা প্রাপ্য। প্রথম ছবিতেই তিনি মন জয় করে নিয়েছেন। আগামী দিনে তাঁর কাছে আরও ভাল ছবি পাওয়ার প্রত্যাশা রয়ে গেল। রাজাদিত্য চরৈবেতি।