রূপান্তর আছে ক্ষয় নেই – মৃগাঙ্ক

কিছু মনে কোরো না। আসলে তোমার মনে করার আছেই বা কী? এই দ্যাখো না, আমাদেরই তোমাকে মনে পড়ে বিজ্ঞাপণের দরকারে, মাত্র দুটো দিন এর উচ্ছাসে আর ল্যাম্পপোস্ট এর তারে।

একটা জাতির প্রাণ ছিলে আর এখোনো আছো দুটো দেশের জাতীয় গানে তবু তাদের সময় হয় না তোমার দিকে ঘুরে তাকানোর। বড্ড সময়াভাব বড়ই প্রাণের অভাব। আসলে প্রাণটাই তো নেই।

প্রাণের মাঝে, গানের মাঝে, লেখার মাঝে তোমাকে নকল করা, প্রেরনা নেওয়া, অবহেলা করা, ব্যঙ্গ করা এমনকি তোমাকে টপকে জগৎকে দেখিয়ে দেওয়ার ইচ্ছেটাও প্রবলভাবে কাজ করে অনেকের মধ্যে।

কিন্তু ঐ যে, তুমি যেমন করে বহুযুগের ওপার থেকে মনে আষাঢ় এনে বরিষধারায় শান্তির বাণী শোনাও তা করতে গিয়ে সবার চোখে শ্রাবণ আষাঢ় আর মাথায় মরুভূমি। মন আর হৃদয় তো না বলাই ভালো। তথৈবচ দিয়ে কোনোরকমে বর্ণনা করা যায়।

 

তবুও তোমাকে নিয়ে কেউ এখনো বলতে পারে না “ আমার সকল রসের ধারা তোমাতে আজ হোক না হারা”। পারে না, পারার চেষ্টাও করে না। যতদিন যাবে ততদিন আস্তে আস্তে করে তারা তলিয়ে যেতে থাকবে। শিকড়হীন, অস্তিত্ব হীন এক অন্ধকার অজানার দিকে।

যতদিন না হচ্ছে ততদিন যেভাবে খুশি তোমাকে নিয়ে, তোমার লেখা, তোমার গান আর কবিতা নিয়ে চটকাবে, তেঁতো করবে, ছিবড়ে করবে তার পর ভেবে নেবে তোমার প্রয়োজন ফুরিয়েছে। তখন ফেলে রাখবে কোণাতে অযত্নে বা রদ্দি ভেবে বেচে দেবে।


তোমার অস্তিত্ব তাদের কাছে ফুরাবে অথচ তারা জানতেও পারবে না তোমার ক্ষয় নেই।

তুমি শক্তির একটা রূপ, বিজ্ঞানের সেই সূত্র যা বলে তোমার ক্ষয় নেই রূপান্তর আছে।