ছোটো গল্প - বসন্তের এক সন্ধ্যায় - পলাশ দে | A Spring Evening - Bengali short story by Palash Dey | WBRi Bengali Online Magazine

A Spring Evening - Bengali short story by Palash Dey in Unicode Bangla Font - WBRi Bengali Online Magazine exclusive.

ছোটো গল্প

বসন্তের এক সন্ধ্যায়

পলাশ দে


বসন্তের এক সন্ধ্যায় পৃথিবী তখন নবান্ন অলংকারে সাজগোজ করছে।স্নিগ্ধ বাতাস মাঝে মাঝে গান রচনা করার জন্য কোকিলের খোঁজ করছে,তাই এত ব্যস্ত।আকাশের চাঁদের আলো জগতটাকে আলোকিত করে তুলেছে।অপুর্ব এক সন্ধ্যা হঠাত ডায়রির মাঝ পথে এসে থমকে দারালো দেবাংশুর কলম।যেন ভুল পথে হেঁটে ছিল।না ভুল পথে নয়,তাহলে কি? স্মৃতি... মাঝ পথে হঠাত স্মৃতির সাথে দেখা,তাই অতীতের জমা পত্র মাঝ পথে দিয়ে গেল স্মৃতি।তাতে লেখা আছে...সেদিন প্রাইভেট টিউশন যাওয়া হয়নিই।সৃজা আমার জন্য অপেক্ষা করছিল বাস-ষ্টেণ্ডে দাঁড়িয়ে।আমি একটা বিশেষ কাজে সেদিন টিউশন যেতে পারিনিই।মোবাইলে পাঁচটা মিস্‌কল ছিল তার সাথে    একটা এসেমেস্‌-‘আই এম্‌ ওয়েটিং    ফর্‌ ইউ’।মোবাইলে বেলেন্স না থাকায় কোনো উত্তর দিতে পারিনি।পরের দিন কলেজে যাওয়ার পর সৃজা আমাকে লাইব্রেরীর রিডিং রূমে নিয়ে যায়।সে বল্‌ল-তুমি কি পেয়েছো আমার জন্য কি তোমার  মনে কোনো  ফিলিংস্‌  নেই নাকি। আমি কেবল  দেখছি তুমি বেশ ক’দিন ধরে আমার প্রতি একটু কম নজর দিচ্ছো।কী হয়েছে তোমার।কাল আমাদের দু’জনের ভালোবাসার তিন বছর পূর্ণ হলো।তোমাকে wish করবো ভেবেছিলাম,তোমাকে সার্‌প্রাইজ দেবো বলে কত কী চিন্তা করেছিলাম,আর তুমি...মাই ফুট্‌।সেদিন আমি তাকে কলেজ থেকে বাইরে একটি খোলা জাগায় নিয়ে গেলাম,প্রকৃ্তির দৃশ্য সেদিন হয়তো সৃজার জন্য পৃথিবীর আর্ট গেলারিতে টাঙানো ছিল না।ঝিরি-ঝিরি বৃষ্টি পরছিলো।শীতল বাতাস সেদিন রোমান্টিকের সাথে কথা বলেনিই।কিন্তু আমাকে বলতে হয়েছিলো সৃজার সাথে।দেখতে ভারী সুন্দর ছিল সে।আমরা দুজনেই ফিলোসফিতে অনার্স নিয়ে বি.এ. ফাইনাল পড়ছিলাম।যদিও সে বাড়ীর এক মেয়ে অহংকার একটু ছিল,কিন্তু তা আমার প্রতি নয়।আমি সৃজাকে বলেছিলাম সৃজা তুমি কী আমায় ভুলে যেতে পার না।আমার ভালোবাসা তোমার মূল্যবান সময় কে সময় দিয়ে উঠতে পারায় অক্ষম।আমি চেয়েছিলাম তোমার সাথে অনেকটা সময় কাটানোর জন্য।কিন্তু পেরে উঠতে পারছিনা।কেন?তা আমি নিজেও জানি না।একটা মানুষ তার মনের কথা সে তার কাছের মানুষকে বোলে তার বুক হাল্কা করে।আর আমি এক হতভাগা যা তোমাকে পেয়ে  বুকের  মধ্যে  আরও  বেশী  করে  বোঝা জমা করছি।সৃজা বোলে উঠলো কীসের বোঝা?তুমি আমাকে নিয়ে কী এমন সমস্যায় পরেছো,যে দিন-দিন তুমি কষ্ট পাচ্ছো।আমি তো কিছু বুঝে উঠতে পারছি না।আর তাছাড়া আমাদের মধ্যে এতদিনের রিলেশনে তুমি এখন কিসের এমন ডিপ্রেশানে আছো আমি তো কিছুই বুঝছি না।তুমি আমাকে পরিষ্কার করে বলো,কি হয়েছে তোমার,তুমি কেনো আজকে হঠাত এমন কথা বলছো।তোমার কথা শুনে আমার মনের ভিতর যেন কেমন করছে দেবাংশু।তুমি আসলে কী বলতে চাও শুনি।

সৃজা প্লীজ তুমি কিছু মনে করবে না,তুমি আমায় ভুল বুঝবে না।একচুয়্যালী আমি বোলতে চাছিলাম যে...কী বোলতে চাইছো বলো দেবাংশু।আমি বোলতে চাই এটাই যে সৃজা তুমি আমাকে ভুলে যাও।হোয়াট...?কি বোলছো তুমি,দেখো দেবাংশু তুমি আমায় ভয় দেখাচ্ছো তাই না।দেখ তুমি রাগ করেছো আমি জানি,তখন তোমাকে কিসব বলেছি আর তুমি এখন আমাকে এগুলো কথা বলে ভয় দেখাচ্ছো তাইনা।আচ্ছা শুনো,আমি তোমার উপর কোনো রাগ করিনি।আর তোমার যখন সময় হবে তুমি এসো আমি এখন থেকে কিছু বলবো না।ঠিক আছে আই এম্‌ ভেরী সোরী ওকে... দেখ সৃজা আমি সত্যি-সত্যি বোলছি,আমি কোনো তামাসা কিংবা ঠাট্টা করছি না।আমি তোমার জ়ীবনে ভালোবাসার আর কোনো মূল্য দিতে পারবো না।সো প্লীজ,তুমি আমাকে ভুলে যাও।আর কাল থেকে আমার সাথে তোমার আর দেখা হবে না।দেবাংশু কী বলছো তুমি।তুমি কী পাগল হয়ে গেছো,কীসব বলছো এগুলো।তুমি এতদিন আমার সাথে ড্রামা করেছো।এত বড় ফ্রড করলে।তুমি জানো তোমার এই কথায় কয় জনের প্রাণ নষ্ট হতে পারে।তখন আমি বোলেছিলাম প্রাণ নষ্ট হওয়ার কথা বলছো কেন?জীবনে এখনো অনেকটা পথ হাঁটতে হবে তোমায়।আর তোমার মত মেয়ের মুখে এসমস্ত কথা সোভা পায় না।সৃজা বোলে উঠলো-চুপ কর তুমি।ছেলে বোলে তাই মুখে যা আস্‌ছে তাই বোলে যাচ্ছো।আজকে আমার জায়গায় তুমি থাকলে তুমিও আমার মতই বোলতে যা আমি বোলছি।ছেলে হয়েছো তাই মেয়েদের জ্বালা বোঝো না।যেনে রাখো,বাস্তোবের ঘড়ির কাটা দেওয়ালের ঘড়ির মত নয়,যা দিন-রাত একই সময় দেখাবে।বাস্তোবের কাটা বড় বেজাল এ কখনো কোন দিকে কি সময় দেখানো শুরূ করে প্রকৃ্তিও মাঝে-মধ্যে হিম্‌সিম্‌ খেয়ে যায়।ছেলে হয়েছো তাই নিজের প্রতি গর্ব ও আত্মশক্তি প্রচুর তাই না।কিন্তু ভুলে যেও না,যে পুরূষ নারীর সঙ্গে ছলনা করে সে পুরূষ এই পৃথিবী্র বুকে কোনোদিনো সুখ পায় না,কোনো দিনো বড় হতে  পারে না। আর তুমি  আমাকে বলচ্ছো আমার মুখে এই সব কথা সোভা পায় না,একটা অসহায় মেয়ে কী করতে পারে যখন সে সন্তানের ‘মা’হতে চলেছে।একটা নারী তখন কি করতে পারে যখন তার সন্তানের পিতাকে কাছে পায় না।এই কথা বোলে সৃজা হাউ-হাউ করে কাঁদছিলো।

সেদিন আমার মাথার উপর আকাশ ভেঙে পড়েছিলো।আমি এত-বড় ভুল করবো ভাবতেও পারিনি।কিন্তু কি করে এই ভুল হলো।সৃজা প্রেগ্‌নেন্ট হয়ে গেল,অথচ আমার কোনো হুঁশ নেই।আমি বাবা হতে চল্‌ছিলাম।আমি এই কথা শুনে চলে এসেছিলাম সেদিন,সৃজা আমার পায়ে পরে পা-দুটোকে জড়িয়ে ধরে ভীক্ষা চেয়েছিলো তার ভালোবাসার।সেদিন বসন্তের সন্ধ্যা ছিলো।প্রবল বৃষ্টি শুরূ হয়েছিল।কখন সন্ধ্যা হয়ে গেছে টেরো পায়নিই।সেদিন বুঝেছিলাম যে,জীবনের পথ জগতের অন্যান্য পথের থেকেও অনেক বেশী জটিল।এই পথে মানুষ হারায় না,কেবল অপেক্ষা করে প্রিয় জনদের জন্য।লেখা ডায়রীর মাঝ পথে স্মৃতি এসে অতীতের এই লেখা পত্রটি আমায় দিয়ে গিয়েছে।দেবাংশু আবার লিখতে শুরূ করে-আসলে,আমি এই সংসারে পিতা-মাতাহীন অনাথ সন্তান।আমার এই পৃথিবী্র বুকে যদি কেউ ছিলো তবে সে একমাত্র সৃজা।জীবনের কঠীন পরিস্তিতির মধ্য দিয়ে সংগ্রাম করে আমি বড় হয়েছিলাম।কী করে সময়ের সাথে সাথে নিজের বোঝা নিজেই টেনে উঠিয়ে দাঁড় করিয়েছি,তা এক আশ্চর্য অভিনয় এই পৃথিবী নামক নাটক মঞ্চে।বিধাতাও মাঝে মাঝে নাটকের চরিত্রকে উইদাউট প্রেকটিসে উঠিয়ে দেয় মঞ্চে।পরেদিয়ে হিম্‌ সীম্‌ খেতে হয় নায়ক বা নায়িকাকে।ভালো খেতে পারিনিই কোনোদিনো।হাড়ভাঙা পরিশ্রম     ও রাতে     এসে    পড়াশুনা। তারপর সৃজার সাথে মাঝে মাঝে গিয়ে কলেজে কিংবা প্রাইভেট টিউশনে দেখা করা।রোজ যাওয়া হয়ে উঠতো না।একদিন শরীর খারাপ করে ।চিকিত্‌সা করবো পয়সা নেই।এদিকে কলেজে বি.এ. ফাইনাল পরীক্ষার জন্য ফর্ম ফিলাপের টাকা জমা দিতে হবে।কী-করবো না করবো,শেষ পর্যন্ত আমি আমার অল্প জমানো পইসা দিয়ে চিকিত্‌সা কোরলাম।ডাক্তারবাবু বল্‌লেন আমার দুটো কীডনিই ডেমেজ হয়েগেছে।আমার হাতে সময় কম,আর মাত্র ছ’মাস।এবার বিশ্ব সংসারের আদালতের যে কাঠগোড়ায় আমি দাঁড়িয়ে ছিলাম,সেখানে বিচারকের কি রায় হতে পারে,নিশ্চয় ভালোবাসার থেকে নিজের জীবনটাকে বঞ্চিত করার আদেশ।জীবনের সমস্ত দায়িত্ব থেকে অবসর।কেবল হাতে যে বাকী সময় পেলাম তা কেবল এই ডায়রীতে লিখেছিলাম।আর অপেক্ষা নয় এবার আসছি সৃজা...

চলে গেছ দূরে তুমি
বহুকাল আগে,
যেতে নাহি দিয়ে ছিলে
আমায় সেদিন,
অপমানে কুলসিত নারী
গিয়েছে সব মায়া ছাড়ি,
এই ভুবন হতে চলে গেছো
অপমান মাথায় লয়ে,
পারনিই সহিতে এত বড় ফাঁকী-
আমিও আসছি প্রিয়ে
তব মায়ার বাঁধন ছাড়ি।।
বিদায়...

- ইতি দেবাংশু।


Palash De - Poet Elocutionist from Assam, IndiaPalash Dey wrote his first poem and a story in school during Class 6.  He is a Central Committee  member of Bishwabanga Sahitya O Sanskriti Sanmelan and a regular contributor to Bengali literary magazines like “Prantik” published by the Nikhil Banga Sahaitya Sabha, Kokrajhar, Assam and a freelancer for some news-papers. Palash Dey lives in Bongaigaon, Assam and can be reached by e-mail at poet77.palash@gmail.com