ছোটো গল্প - গতিময় জীবন - পলাশ দে | FAST LIFE - A Bengali Short Story by Palash Dey | WBRi Online Bengali Magazine

FAST LIFE - A Bengali short story by Palash Dey in Unicode Bangla Font - WBRi Online Bengali Magazine exclusive.

ছোটো গল্প

গতিময় জীবন

পলাশ দে


বিজয় কুমার পেশায় কুলি।গুয়াহাটী প্লেটফর্মে বসে মদের নেশায় একের পর এক গলা ছেড়ে রফি ও কিশরের পুরনো হিট সোংগুলো গেয়ে যাচ্ছে।আর মাঝে মধ্যেই আবল তাবল বোকছে।কীযে সে বলে সে নিজেই জানে না।তাকে ষ্টেশনের টি-টি,গার্ড এমন কী ষ্টেশন মাষ্টার মাঝে মধ্যেই ডেকে বোঝান,সে তা কর্ণপাত করে না।তার সবচেয়ে বড় অভিমান,সে নেশা গ্রস্ত অবস্তায় কবুল করে।তার অভিমান এই তার স্ত্রী নাম জয়া সে এই ষ্টেশনে এ.সি.ডিপার্টমেন্টে ক্লার্কের কাজ করে।বিজইয়ের অভিমান সে একজন পুরূষ হয়ে সে তার স্ত্রীর অধীনে থাকতে পারে না।তা ছারা সে যে ষ্টেশনের কুলি,তার স্ত্রী কিনা সেই ষ্টেশনের একজন কর্মচারী।এই তার মনের বিরাট বিধুরতা।এদিকে কোনো যাত্রীর মাল বোঝাই করার সময় সে তার স্ত্রীর পরিচয় দিয়ে নিজের বক্ষ স্বাস্ত্য করতে এক ফোঁটাও হের-ফের করেনা।সকলে আবার বিস্মিত ভাবে বোলে উঠে-এই কুলিটা বলে কি এর স্ত্রী কিনা এই ষ্টেশনের কেরানী। কেউই বুঝে উঠতে পারেনি ব্যপারটা।আর নেশাগ্রস্ত এই বাতুলতার জন্য  তার  স্ত্রী  জয়া  তাকে  বাড়ীতে  অনেক  বার বুঝিয়েছে।কত ভালোবাসা দিয়ে তাকে এই ব্যপারে পদভ্রষ্ট করতে চেয়েছে কিন্তু সে তার জায়গায় অটুট।মাঝে মধ্যে যখন ডিভর্সের কথা এসে যায় তখন কিছুদিন সে কাবু করে রাখে কিন্তু এ তার উল্কা-প্রায় ন্যায়।এর কিছুদিন যেতে না যেতে সে সমস্ত শপথের পান্ডুলিপীগুলো অতীতের কাছে জমা রেখে সে আবার মাদক দ্রব্যে নিজেকে ডুবিয়ে ফেলে।

তখন তার স্ত্রী তাকে বলে-বুঝবে যেদিন আমি মরে যাব সেদিন যখন তোমাকে বোঝানোর কেউ থাকবে না।তখন তুমি কপাল থাপ্‌ড়াবে।তখন আমেকে নিয়ে তোমার যা গর্ব সব মাটিতে মিলে যাবে।তখন দেখবে মজা,সেই সময় না-আমি আসব দেখতে, নাইবা তোমাকে বলবো এই সব ছালিমাটি ছাড়ার কথা।

স্ত্রী জয়াকে বিজয় খুব ভালোবাসে।যখন তার নেশাঘোর কাটিয়ে ওঠে তখন সে-চিরজীবনের জন্য মদ ছেড়ে দেবে বলেযে সে আজ পর্যন্ত কত ব্রত তার স্ত্রীর সম্মুখে বলে পালন করে যায় তার কোনো ইয়ত্তা নেই।কিন্তু যেই ঘরের বাইরে কর্মের রণক্ষেত্রে নেমে পরে তেমনি সব কর্ত্তব্য থেকে বিমুর হয়ে সে লুটিয়ে পরে মদ্যপানে।এভাবে করে বেশ কিছুদিন কাটে। এদিকে দুটি-মেয়ে সন্তান রয়েছে বাড়ীতে,তারা স্কুলে পড়াশুনা করে।তাও আবার ইংরাজ়ী মাধ্যমে।তাদের পড়াশুনার সম্পুর্ন খরচ জয়া নিজেই চালায়।জয়া পিউপাশ।সে পিউপাশ করার পর্‌ বিভিন্ন সার্কুলারের মাধ্যমে এদিকে-সেদিকে চাকুরীর চেষ্টা করতে করতে গুয়াহাটী ষ্টেশনের একটা কেরানীর চাকুরী জুটে যায়।আর কুলি বিজয়ের সাথে বিবাহ বন্ধন তাদের প্রেমের জুড়িতে সাফল্য।তাদের এই প্রেমের যুগল ঘটেছিলো পাড়ার প্রতিবেশির সময়ে।

একদিন হঠাত বিনা মেঘে বজ্রপাত হলো বিজয়ের জীবনে।বিজয়ের স্ত্রী জয়া বাড়ী ফেরার পথে,পথ দূ্র্ঘটনায় মারা যায়।এরপর থেকে বিজয়ের জীবনে নেমে আসে এক অপ্রতাশিত অভিশাপ।যা সে সপ্নেও ভাবেনিই।প্রতেকদিন সে নেশাগ্রস্ত অবস্তায় যে ভাবে টোল হয়ে থাকতো,সে আর সেভাবে থাকেনা,মুখদিয়ে তার আর কোনো গানও বের হয় না।সবাই দেখে আসে আর শান্তনা দেয়,তার স্ত্রীর মৃত্যু শোখে একেবারে মুর্ছিয়ে গেছে।যাত্রীদের মাল বহন কোরে পৌঁছিয়ে দেয়,কিন্তু এর বিনিময়ে সে তাদের কাছ থেকে পয়সা নেই না,আর কোনো কথাও বলে না।সে স্বরণ করছে তার স্ত্রীর কথাগুলো;যখন বলত-“ আমেকে নিয়ে তোমার যা গর্ব সব মাটিতে মিলে যাবে”। সে এই কথাগুলো স্বরণ  করে আর একা একা বসে কাঁদে।জয়ার মৃত্যুর পর যে সমস্ত গ্রেজুইটির টাকা থেকে শুরূ করে যা-যা পাওনা সেগুলো মিলে প্রায় দু-লক্ষ টাকা জয়ার সহকর্মীরা বিজয়ের হাতে দিয়ে দেয়।তখন বিজয়ের এক অসাধ্য-নিধন দেখে সকলের তাক লেগে যায়।

বিজয় জয়ার সহকর্মীদের জানায় যে সে তার স্ত্রীর টাকাগুলো সরকারকে দান করে দেবে।আর এই টাকাটা দিয়ে সে তার স্ত্রীর স্মৃতি কামনার জন্য একটি বিদ্যালয় খুলতে চান,যাতে সেই বিদ্যালয়ে গরীব ছেলে-মেয়েরা পড়াশুনার সুযোগ পায়।এখবর উপর মহল পর্যন্ত পৌঁছে যায়।সবাই অবাক,কেউ-কেউ বোলছে তোমার মাথাকি খারাপ হয়নিই তো বিজয়।তুমি জানো তুমি কি বলছো,তোমার ভবিষ্যত তোমার দুই-মেয়ের কথা কি ভুলে যাচ্ছো।তাদের ভবিষ্যত কি হবে।বিজয় বলল,আমি ঠিক বোলছি এবং আমি এটাই চাই।আমি আমার মেয়েদের তাদের মামার বাড়ীতে রেখে দিয়ে এসেছি।আর আমার কথা সে ব্যবস্তা আমি কোরে ফেল্‌বো।এরপর অবশেষে তার জর্জবর্দস্তিতে তার ইচ্ছা অনুযায়ী একটা বিদ্যালয় খোলা হ’ল এবং সেখানে বিভিন্ন গরীব ছেলে-মেয়েরা পড়াশুনার সুযোগ পেল। এদিকে কুলি  বিজয় সে গুয়াহাটী ছেড়ে দিয়ে  তার স্ত্রী ও সন্তারদের স্মৃতি রেখে সে তার স্বদেশে চলে যায়।

এই ঘটনার পর থেকে সে মদ খাওয়া ছেড়ে দেয় আর গান তার স্ত্রী জয়ার স্মৃতিতে নিরবতা পালন করার জন্য নিঃস্তব্ধ হয়ে যায়।


Palash De - Poet Elocutionist from Assam, IndiaPalash Dey wrote his first poem and a story in school during Class 6.  He is a Central Committee  member of Bishwabanga Sahitya O Sanskriti Sanmelan and a regular contributor to Bengali literary magazines like “Prantik” published by the Nikhil Banga Sahaitya Sabha, Kokrajhar, Assam and a freelancer for some news-papers. Palash Dey lives in Bongaigaon, Assam and can be reached by e-mail at poet77.palash@gmail.com