পাঁচটা আঙুল (Five Fingers) Bengali Poem by Udayan Banerjee | WBRi Online Bengali Magazine

Bengali Poet, Singer and Song-Writer Udayan Banerjee

"Panchta Angul" is a Bengali poem (Bangla Kobita) by Udayan Banerjee in unicode Bangla font published in WBRi Bengali Online Magazine section.

The poem is one of Udayan's new ones and not yet published anywhere before now.

Udayan's first book of poetry “Kobitar Bisforan” was published in 2011 in Kolkata and has been selected at Sarat Samity (a library situated at Aswini Datta Road, Near Triangular Park, Kolkata, where the great writer Kathasahityik  Sarat Chandra Chattopadhayay once resided) for their members/readers. Besides writing poems, Udayan sings Bengali Modern Songs and his own compositions, and ‘acts’ (he prefers to not call it "recitation") his own poems. He has studied singing techniques as well as some unique vocal exercises with his two music teachers - Kabir Suman and Anjan Mukherjee who is a disciple of the great composers Prabir Majumdar & Sudhin Dasgupta.

Udayan lives in Kolkata with his wife Sujata and daughter Sargam and works with an engineering company as a Project Manager, and can be reached by e-mail at udayan1969 [at] gmail [dot] com.

You can send your creative writing to submissions@washingtonbanglaradio.com for consideration towards publication.


পাঁচটা আঙুল



পাঁচটা আঙুল হাতের পাঁচ

ভাব প্রকাশের নানান ধাঁচ

জানে বিশ্বলোক।

পাঁচটা আঙুল তার ভাষায়

মোদ্দা কথা বুঝিয়ে যায়

যার যে-ভাষাই হোক।

 

পাঁচটা আঙুল আদর করে

বন্ধু ভেবে আঁকড়ে ধরে

রাগলে কশায় চড়।

পাঁচটা আঙুল পাকায় ঘুঁসি

পাঞ্জা লড়ে যখন খুশি

দিন বদলের পর।

 

পাঁচটা আঙুল প্রতীক হয়

গণতন্ত্রের জয়-পরাজয়

দেয়াল জুড়ে থাকে।

পাঁচটা আঙুল শোনায় গান

জানায় নিজের অবস্থান

ঢিল ছোঁড়ে মৌচাকে।

 

পাঁচটা আঙুল মেটায় জ্বালা

মুখের কাছে খাবার থালা

নিয়ে জীবনভর।

পাঁচটা আঙুল কাঁধকে ছুঁলে

ভরসা লাগে। প্রাণটা খুলে

যায় দেখি যে তোর!

 

পাঁচটা আঙুল আশীর্বাদ –

মাথার ওপর একখানা ছাদ

হয় জীবনে যেন।

পাঁচটা আঙুল দেয় যে ডাক –

তন্ত্রে-মন্ত্রে সব সুখে থাক,

চিন্তা করিস কেন!

 

পাঁচটা আঙুল হাতছানি দেয়

ভন্ডুল হয় আয়-বুঝে-ব্যয়

প্রলোভনের ফাঁদে।

পাঁচটা আঙুল বিদায় ব’লে

মুখের কাছে যখন দোলে

দূর থেকে মন কাঁদে।

 

বুড়ো আঙুল কাঁচকলা হয়

সৌভাগ্যেরও সে পরিচয়

ধরবে যেমন করে।

বুড়ো আঙুল তর্জনীকে

টুসকি দিলে ওপর দিকে

টাকার গন্ধ ওড়ে।

 

বুড়ো আঙুল দেয় টিপ-ছাপ

নিরক্ষরের চির-অভিশাপ

কার যে পকেট ভরে!

পাঁচটা আঙুল অপরাধের

চিহ্ন রাখে; ধরায় কাদের

জানতে ইচ্ছে করে।

 

তর্জনীটা ক্রিকেট-মাঠে

বিচার করে; ফন্দি আঁটে

জিতুক আমার দেশ!

তর্জনীটা বারণ করে

ডাকতে কাছে একটু নড়ে,

হাজিরা দেয় বেশ।

 

কড়ে আঙুল তোলার মানে

ছোট-বড় সবাই জানে

শহর কিম্বা গাঁয়ে।

মধ্যমাটা মাত্রা পেল

চ্যাপেল যখন দেশে এল

অশ্লিলতার দায়ে।

 

তর্জনীটা অনেক সময়

হুকুম করে; উদ্ধত হয়

ঘি তুলতে বাঁকে।

মুখের কথা থামিয়ে দিতে

তর্জনীটা অতর্কিতে

ঠোঁটে আঙুল রাখে।

 

তর্জনীটা মধ্যমাকে

সঙ্গী করে চিহ্ন আঁকে

জয়ের উল্লাস।

দু-আঙুলের মধ্যিখানে

সিগারেটের আভাস আনে

বন্ধু বারো মাস।

 

অনামিকা আংটি পরে

কড়ে আঙুল আড়ি করে

বুড়ো আঙুল ভাব।

আঙুল মাপে – বিঘত কত,

আঙুল বোঝায় ‘অসম্মত’

আঙুল দেয় জবাব।

 

তর্জনীটা চেনায় – কারা

ঘুরছে অবাধ, চষছে পাড়া

দিনের পর দিন।

তর্জনীটা চেনায় দূরে

ঐ যে তারা আকাশ জুড়ে

কাঁপে অন্তহীন।

 

পাঁচটা আঙুল সেলাম করে।

নিজের মনে ডুয়েল লড়ে

ভিন্ন হলে মত।

পাঁচটা আঙুল আলতো চাপে

টাটকা প্রেমের ছন্দ মাপে

চলতে চলতে পথ।