যুক্তির বাইরে - শুকদেব চট্টোপাধ্যায়, রহড়া | "Juktir Baire" by Sukdeb Chatterjee - WBRi Online Bengali Magazine

SUKDEB CHATTOPADHYAYSukdeb Chatterjee tells a strange story of an unknown street dog that showered love on him in Galudih, in unicode Bangla font published in WBRi Bengali Online Magazine section. You can send your creative writing to submissions@washingtonbanglaradio.com for consideration towards publication.



যুক্তির বাইরে

শুকদেব চট্টোপাধ্যায়, রহড়া


স্টেশনের গালুডি রিসোর্ট থেকে সকালবেলা বেরিয়ে পড়েছি। নতুন জায়গা,  প্রাতঃ ভ্রমণও হবে আবার আশপাশটা একটু দেখাও হবে। বড় রাস্তায় খানিকটা হেঁটে বাঁয়ে লাল মাটির একটা সরু পথ ধরলাম। চার পাশে বাড়ি ঘরের সংখ্যা বেশ কম আর পাকা বাড়ি তো হাতে গোনা কয়েকটা।

কিছুক্ষণ যাওয়ার পর চোখে পড়ল বড় বাউন্ডারি ওয়াল দেওয়া একটা বাড়ি। ভেতরে অনেক গাছ গাছালী রয়েছে। বাইরে সাইনবোর্ডে লেখা ‘আশ্রয় আশ্রম’। সুন্দর নাম। ভেতরে ঢোকার ইচ্ছে ছিল। কিন্তু সাধ পূর্ণ হল না কারণ, প্রবেশ দ্বার ভেতর থেকে বন্ধ।

সকালের স্নিগ্ধ পরিবেশ কেটে গিয়ে ধীরে ধীরে রোদের তেজ বাড়ছে। বেশিক্ষণ রোদের মধ্যে হাঁটতে ভাল লাগবে না। ফেরার পথ ধরলাম। আপন মনে গুন গুন করে গান গাইতে গাইতে হাঁটছি, হঠাত কোথা থেকে একটা খয়েরি সাদা ছোপ ছোপ কুকুর ল্যাজ নাড়তে নাড়তে আমার সামনে এল। ভারি সুন্দর  দেখতে। চেহারা দেখে মনে হল শৈশব কাটিয়ে সদ্য যৌবনে পা দিয়েছে।

আমি একটু দাঁড়াতেই কুকুরটা আমার পায়ে গায়ে মাথা ঘষে, এমনকি আমার বুকের ওপর সামনের পা দুটো তুলে আহ্লাদ জানাতে শুরু করল। আমিও ওর গায়ে মাথায় হাত বুলিয়ে আদর করে দিলাম। কুকুরটা আমায় ছাড়তেই চায় না। আনন্দের আতিশয্যে বারে বারে আমার পায়ে গায়ে লাফাতে শুরু করেছে।

আমি জন্তু জানোয়ার খুব ভালবাসি, কিন্তু তখন একটু ভয় হল। এত লাফালাফি করছে, নখের আঁচড় লেগে গেলে আবার ইঞ্জেকশনের হ্যাপা।  দুবার মৃদু ভাবে ‘যা যা’ বললাম। কিন্তু যাকে বলা সে তখন নানাভাবে আমাকে তার ভালবাসা জানাতে শুরু করেছে। উপায়ন্তর না দেখে খানিকটা জোরে চিৎকার করতে হতবম্ব হয়ে কুকুরটা সরে গেল।

খানিকটা এগিয়ে এসে পিছন ফিরে দেখি সে তখনও হাঁ করে আমার দিকে তাকিয়ে বসে আছে। একটু খারাপ লাগলেও আর দাঁড়াইনি, হোটেলে ফিরে এলাম।

কুকুরটার কথা মনের মধ্যে ঘুরছিল। হঠাত মনে পড়ে গেল লুসির কথা। অফিস থেকে যখন বাড়ি ফিরতাম তখন লুসিও আনন্দে এমনই পাগলের মত দাপাদাপি করত। আমার গায়ে খানিক ঝাঁপা ঝাঁপি করে হাত মুখ চেটে দিয়ে তবে থামত। বছর দেড়েক হল ও আমাদের ছেড়ে চলে গেছে। লুসি ছিল আমাদের সন্তানের মত। সাদা ধপধপে রং এর স্পিজ। আমরা ওকে ভালবাসতাম, আদর করতাম। ও ওর মত করে তার প্রতিদান দিত।

কিন্তু রাস্তার ওই কুকুরটা অমন আচরণ করল কেন ? আমি ওর পরিচিত বা ওখানকার বাসিন্দা নই। আমার হাতে কোন খাবার ছিল না আর আমার পোশাকও ছিল স্থানীয় লোকেদের থাকে অনেকটাই ভিন্ন। তাহলে কিসের আকর্ষণে ও অমনটা করছিল। তবে কি ও আমার লুসি ছিল!

এটা একবার মাথায় আসতেই আর বসে থাকতে পারলাম না। আবোল তাবোল নানান চিন্তা করতে করতে ফিরে গেলাম সেই রাস্তাটায়। এদিক ওদিক অনেক খোঁজা খুঁজি করলাম। কিন্তু ওই কুকুরটাকে আর দেখতে পেলাম না। রাস্তায় দু একটা কুকুর তখনও বসে ছিল। কিন্তু তারা আমায় দেখে কাছেও এল না ল্যাজও নাড়াল না।


শুকদেব চট্টোপাধ্যায়, রহড়া।
৪৬৬,ওল্ড ক্যালকাটা রোড,
১৮১ নং রেশন দোকানের পাশে,
পোঃ রহড়া, জিলাঃ উত্তর ২৪ পরগণা,
পিন-৭০০১১৮.
ফোন-৯০৫১২৫৯০৭৫ / ২৫৬৮৭৮০২
ইমেলঃ sukdeb.fhs@gmail.com / Sukdeb_rah@rediffmail.com