তুমি যে আজ কল্পতরু ঠাকুর: দক্ষিণেশ্বর থেকে তারক ঘোষ ও জয়া বন্দ্যোপাধ্যায় (KALPATARU UTSHAB at DAKSHINESWAR)

The following article is in Unicode Bengali font. Tarak Ghosh and Jaya Bandopadhyay report from the Kolpotoru Utshob at Dakshineshwar.
Tarak is a writer and a journalist, managing editor of NEWS3, and former journalist for the Bartaman, the Telegraph and other dailies and journals.
Jaya is a former Journalist of CVP television & news agency CTVN plus, Sristi and M9 Bengali Channel. Photography is her hobby.
You can send your creative writing to submissions@washingtonbanglaradio.com for consideration towards publication in our Bengali online Magazine section.

কাশীপুর উদ্যানবাটি থেকে দক্ষিণেশ্বর।পথের শেষ থেকে শুরু আর এক নতুন
পথের দিশা।লক্ষ মানুষের হৃদয়ে আজ শুধুই রামকৃষ্ণনাম।তবু ভবতারিণী মন্দিরের
পাশ দিয়ে বয়ে চলা গঙ্গায় আজ কেন কান্নার এই চোরা স্রোত?ঠাকুর, তুমি তো
নারীর মধ্যে দেখেছিলে দেবীর চিন্ময়ী রূপ, তাঁকে বসিয়েছিলে দেবীর আসনে।আর
আমরা? আমরা তাকে ঠাকুর, তুমি আমাদের চৈতন্য দাও,দাও বিবেক।দূর কর মনের
মধ্যে লুকিয়ে থাকা পশুটাকে,যাতে আমরা নারীকে আর পণ্য না ভাবি। তুমি যে আজ
কল্পতরু ঠাকুর - দক্ষিণেশ্বর থেকে তারক ঘোষ ও জয়া বন্দ্যোপাধ্যায়
স্থান কাশীপুর উদ্যানবাটি। তারিখ ১৫ আগষ্ট ১৮৮৬।সময় রাত্রি ১ টা বেজে ২ মিনিট। অমৃতলোকে চলে গেলেন যুগপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ।তার ঠিক কয়েকমাস আগে জানুয়ারী মাসের প্রথম দিনে শ্রীরামকৃষ্ণ এক অপরূপ রূপে আত্মপ্রকাশ করলেন এই কাশীপুর উদ্যানবাটিতেই।লীলাপ্রঙ্গকারের ভাষায় এই দিনটি -‘ঠাকুরের অভয় প্রকাশ অথবা আত্মপ্রকাশপূর্বক সকলকে অভয় প্রদান’ এর দিন।


এই দিনে্র এক বিশেষ মুহুর্তে ঠাকুর অকৃপণ হস্তে যার যা প্রয়োজন তাকে তাই দিয়েছিলেন।সেদিন শ্রীরামকৃষ্ণদেব হয়ে উঠেছিলেন কল্পতরু।আর সেদিন থেকে বছরের পর বছর ধরে এই দিনটি পালিত হয়ে আসছে কল্পতরুদিবস হিসাবে। একদিকে কাশীপুর উদ্যানবাটি,অন্যদিকে দক্ষিণেশ্বর।উৎসবে মাতোয়ারা হয় লক্ষ লক্ষ রামকৃষ্ণময় হৃদয়।

সেদিন শ্রীরামকৃষ্ণের ঐশ্বরিক কৃপালাভে যারা ধন্য হয়েছিলেন তাদের মধ্যে ছিলেন অক্ষয়কুমার সেন,নবগোপাল ঘোষ,শ্রীরামকৃষ্ণের ভ্রাতস্পুত্র রামলাল চট্টোপাধ্যায়,হারানচন্দ্র দাস,উপেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়,অতুলকৃষ্ণ ঘোষ প্রমুখ।কিরকম ছিল সেদিন ঠাকুরের কল্পতরু রূপ?আর ভক্তদের অনুভব?
ঠাকুরের রূপের বর্ণনা দিতে গিয়ে রামচন্দ্র দত্ত লিখেছেন, ‘তাঁহার সর্বশরীর বস্ত্রাবৃত এবং মস্তকে সবুজ বনাতের কানঢাকা টুপি ছিল।কেবল মুখমণ্ডলের আলোকে দিঙমণ্ডল আলোকিত হইয়াছিল।তিনি নিকটে আসিয়া দক্ষিণহস্ত উত্তোলনপূর্বক কহিলেন,আমি আর কি তোমাদের বলিব,আশীর্বাদ করি তোমাদের সকলের চৈতন্য হউক।এই বলিতে বলিতে তাঁহার ভাবাবেশ হইল’।

পঞ্চবটী ঃ ঠাকুর এখানেই সা্ধনা করেছিলেন।
সেদিন ঠাকুরের সান্নিধ্যে যারা এসেছিলেন তাদের মধ্যে ছিলেন উপেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়।খুব গরীব ছিলেন তিনি।তাই সেদিন ঠাকুরের কাছে নীরবে আর্থিকস্বাচ্ছন্দ্য কামনা করেছিলেন।ঠাকুর তাকে বলেছিলেন,তোর অর্থ হবে।ঠাকুরের আশীর্বাদে উপেন্দ্রনাথ প্রচুর সম্পদের অধিকারী হয়েছিলেন।প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বসুমতী সাহিত্য মন্দিরের।অর্জিত সম্পদ তিনি সৎ্কাজে ব্যয় করেছিলেন।
আজ সেই ১ জানুয়ারী।ভক্তসমাগমে দক্ষিণেশ্বর এখন পূণ্যভূমি।কল্পতরুরূপী ঠাকুরের কাছে নীরব প্রার্থনা।ভাত পুরানো বছর শেষ হয়ে রামকৃষ্ণ মন্ত্রে জাগ্রত এ এক নতুন প্রভাত।

Listen to WBRi Kolkata Bangla Songs Radio On Your Mobile / Cell Phone Online: 




