সত্য // দেবাদৃতা দত্ত

কোনও কোনও দুঃখের ছাপ আমার চেহারায় পড়ে না  
কিন্তু সেটা আমার দোষ নয় 
মন ভেঙ্গে যায়, গুঁড়ো গুঁড়ো হয় 
তবু, মুখের অভিব্যক্তি বদলায় না- 
সেটা আমার দোষ নয় 
পাড়া-প্রতিবেশী বলে,
আত্মীয়-স্বজন বলে,
চোখের জল নাকি আটকে রাখতে নেই
ওতে অমঙ্গল হয়... 
তাও, মঙ্গল চিন্তায়
গলা ভারি হয় না
থরথর করে কাঁপতে থাকা ঠোঁট কামড়ে ধরি না 
আমার দু’গাল বেয়ে নামে না উষ্ণ প্রস্রবণ 
কিন্তু বিশ্বাস করুন, সেটা আমার দোষ নয় 


মৃতদেহ ঘিরে থাকা জটলার মাঝে, 
বুকফাটা হাহাকার এর মাঝে, 
ধূপ ধুনো আর রজনীগন্ধার মাঝেও
আমি অবিচল দাঁড়িয়ে থাকি 
আর মনে মনে বলি,
‘যে ভালবাসা ছিল, ...আছে, সে তো নশ্বর,  
তাকে ফিরিয়ে নিতে পারব না কোনদিনও’
আমাকে ক্ষমা করবেন,
কিন্তু, এটাও আমার দোষ নয় 
 

 দেবাদৃতা দত্ত বর্তমানে সাংবাদিকতা ও গণসংযোগ বিষয়ে স্নাতকোত্তর স্তরের ছাত্রী । আগে বছর দুয়েক আঞ্চলিক ভাষার সংবাদপত্রে সাংবাদিকতার চাকরি। 

চার বছর বয়সে বাবা-মার কাছে আবৃত্তিতে  হাতেখড়ি । তারপর কবিতার বই থেকে কবিতা গিলতে গিলতে নিজের হাতও নিসপিশ করতে শুরু করল । তখন বোধ হয় ক্লাস ফোর । ব্যস ! সেই যে ভুত ঘাড়ে চাপল, কাব্যরোগের কোনও টোটকাই তাকে নামাতে পারেনি। প্রথমে কাঁচা বয়সে কাঁচা হা্তের লেখা এবং অতি অবশ্যই কাঁচা লেখার হাত । তারপর এতদিন ধরে তাতে একটু আধটু মাঞ্জা লাগানোর চেষ্টা।

কয়েকটা অনুগল্প ছাড়া গল্পের দিকে পা বাড়াইনি । কবিতাই লিখতে ভালোবাসি । শিশু সাহিত্যের প্রতি একটা আলাদা আকর্ষণ আছে । কলকাতা এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার শিশু সাহিত্য মহলে মোটামুটি পরিচিত । ২০০৪ সাল থেকে নিখিল ভারত শিশু সাহিত্য সম্মেলন এর সঙ্গে যুক্ত । আলোর ফুলকি, ঝিলিক মিলিক, রঙ বেরং, কিশোর জ্ঞান বিজ্ঞান, অজগর, শিশুমেলা, চির সবুজ লেখা সহ বেশ কিছু শিশু সাহিত্য পত্রিকায় লেখা প্রকাশিত হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকার, সন্দেশ এবং কিশোর জ্ঞান বিজ্ঞান পত্রিকা আয়োজিত প্রতিযোগিতায় পুরস্কার লাভ।  শিশু সাহিত্যের বাইরে একটু অন্য ধরনের লেখালিখি গত তিন বছর যাবৎ চলছে। ভাল, আরও ভাল, আরও আরও ভাল লেখার চেষ্টায় আছি। আগামী দিনে গল্প এবং উপন্যাস দুটোই লেখার ইচ্ছে আছে । ভালবাসি গল্পের বই পড়তে, আবৃত্তি করতে, গান শুনতে আর  ইস্ট বেঙ্গলকে হারিয়ে মোহনবাগানকে জিততে দেখতে । ভাল না লাগার মধ্যে পড়ার বই এবং মেগা সিরিয়াল ।