সন্তান - তাপসকিরণ রায় | Santan - A Bengali Short Story by Tapashkiran Ray - WBRi Online Bengali Magazine

The Bengali short story "Santan" is written with young adults in mind by Tapaskiran Roy. Roy is writing for a couple of years now and he has been published across various online Bengali magazines including Ichchamati, Joydhak, Diala Kochikancha, Banglalive, Tilottama Bangla, Madhukari, Parabaas etc. The author can be reached at tkray1950 [at] gmail [dot] com. This story is reproduced in Unicode Bangla font.



সন্তান

তাপসকিরণ রায়


রতন কি করবে নিজেই বুঝতে পারে না।ঘরে কালকের খাবার নেই।কালকের দিন চলতে পারলেও পরশ্ব  কি করবে সে!দুটি প্রাণীর খাবার কোত্থেকে যোগার হবে?ও ভাবতে পারে না।

স্টেশনের পাশে ছোট একটা কাপড়ের দোকান ছিলো।দু দিন আগে আগুন লেগে সব ছারখার হোয়ে গেছে।ইন্সুরেন্স করবো করবো করে করা হয় নি।মাথায় হাত দিয়ে রতন ঘরের এক কোণে বসে থাকলো।

রতনের স্ত্রী,লক্ষ্মী এসে বললো,কি করবে গো,এখন ঘরের কোণে অমন করে বসে থাকলে পেট তো মানবে না।
আর কিছু দিন পরে ঘরে সন্তান আসবে।দু জনের সংসার তিন জনের হবে।ভাবতে ভাবতে রতন কোনো কুল কিনারা পায় না।
লক্ষ্মীর কথায় রতন কেবল মাথা তুলে তাকালো।তারপর আবার তার চোখ নেমে এলো মাটির দিকে।কোনো স্বর তার মুখ ফুটে বের হলো না।
--আমি কি দেখব কোনো কাজ পাই কি না?আমি,তুমি কেউ তো মেট্রিক পাশ করি নি!হতাশ রতন বলে ওঠে।
--তা জানি,লক্ষ্মীর বলে।
--চৌকিদার,পিয়নের চাকরি তো পথে ঘাটে পড়ে নেই!রতন বলে।
--না,আমি অন্য কথা ভাবছিলাম.লক্ষ্মী কথা কটি বলে খানিক চুপ করে থেকে বলে,যদি কারো ঘরেটরে কোনো কাজ পেতাম!
--ঝি চাকরের কাজ?
--কিছু তো একটা করতে হবে গো,না খেয়ে পেটে গামছা দিয়ে পড়ে থাকা তো আর যাবে না!

আমায় দুটো দিন দেখতে দাও লক্ষ্মী,এর তাড়াতাড়ি এত নীচে যাবার কথা ভেব না,রতন কথা কটি বলে দীর্ঘ শ্বাস ছাড়ে।
এর পর সাত দিন কেটে গেলো।কারো কোনো কাজ মিলল না।যার কাছ থেকে ধারে এক শ টাকা নিয়ে ছিলো সে এসে চড়াই করল টাকার জন্যে।অগত্যা ঠিক হলো লক্ষ্মী যদি পায় দু তিন জাগায় ঠিকে ঝির কাজ করতে পারে।

পেটের দায়ে অনন্য উপায় লক্ষ্মী তিন ঘরে ঝিগিরি করতে লাগলো।রতন মন থেকে কিছুতেই মানতে পারে না।তার স্ত্রীকে শেষে কিনা ঝিয়ের কাজ করতে হচ্ছে!মর্মে সে মরে যায়!

রতন আবার ব্যবসা পাতার জল্পনা কল্পনা করতে লাগলো।কিন্তু তা কি করে সম্ভব!মাসে হাজার টাকার মত পায় লক্ষ্মী,তা থেকে অনেক কষ্টে ঘর ভাড়া দুশ টাকা মিটিয়ে দুটো পেট চলছে।

তিন চার মাস এমনি ভাবে চলে গেলো।রতন কোনো কাজ পেল না।ঘরে বসে খালি চিন্তা ছাড়া আর কোনো কাজ তার থাকলো না।
রতনের মন ভালো থাকে না।ঘরের অভাব তাকে খুব দুঃখ দেয়।

লক্ষ্মী যেটুকু পায় তা থেকেই সুখী থাকতে চায়।কিন্তু রতন তা পারে না।চিন্তায় চিন্তায় সে পাগলের মত হোয়ে যেতে থাকে।

আজকাল রতন ও লক্ষ্মীর মোধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হয়।লক্ষ্মী প্রায় সময় চুপ চাপ থাকে।কখনো কথায় কথায় যদি কিছু বলে দেয়,রতন খুব খেপে যায়।কখনো লক্ষ্মীর ওপর সে হাত উঠিয়ে দেয়।নীরব লক্ষ্মী কাঁদতে কাঁদতে বাবুদের বাড়ি কাজ করতে চলে যায়।
এত দুঃখের মোধ্যে আট মাস কেটে গেলো।আরও এক দুঃখের বোঝা ওদের ওপর চেপে বসলো।ওদের নবজাত সন্তান--ছোট্ট বাচ্চা--জুল জুল করে ঘরময় তাকিয়ে থাকে।মা নিজে আধ পেটা খেয়ে শিশুর দুধ যোগার করে।

রতন অন্ধকার ঘরে বসে থাকে।ওই দুধ মুখো বাচ্চার ওপর যেন আরও রাগ হয় তার!সে দিন খিদেতে চীত্কার করে যাচ্ছিল বাচ্চা।কিছুতেই শান্ত করা যাচ্ছিল না তাকে।লক্ষ্মীর কাজে যাবার সময় হোয়ে ছিলো তখন।বাচ্চাকে লক্ষ্মী রতনের কাছে নিয়ে গিয়ে বললো,বাটির দুধ টুকু ওকে খায়িয়ে দিও গো!বাচ্চা তখন চীত্কার করছিত।এমনি প্রায়ই হয়.আর রতনের ভীষণ রাগ হয়।
--আমি পারব না,রতন রেগে বলে।
--তুমি না পারলে কে করবে বলো!
--বেশী কাঁদলে ওকে আমি ফেলে দিয়ে আসবো!ফেলে আসার কথাটাও রতন অনেক বার বলেছে।রতনের রাগ ক্রমশঃ বাড়তে থাকে।
লক্ষ্মী আর কথা না বাড়িয়ে বাটির দুধ টুকু বাচ্চাকে খাওয়াতে থাকে.এক সময় চুপ করে বাচ্চা।লক্ষ্মী ইষৎ রাগত বলে ওঠে, এবার তো পারবে ওকে রাখতে?আমি এক ঘন্টা পরেই চলে আসবো।
রতন গুম হোয়ে বসে থাকে।
ওকে দেখো গো,লক্ষ্মী কাজে যাবার জন্যে উঠে দাঁড়ায়।
--বেশী কাঁদলে আমি কিন্তু ওটাকে ফেলে দিয়ে আসবো!

কথা শুনে লক্ষ্মীর রাগ হয়।বলে,তবে আমিও এ ঘর ছেড়ে চলে যাবো।দেখব তোমার খাওয়া কোথা থেকে জোটে!

রতন আরও রেগে যায়,লক্ষ্মীর চুলের মুঠি টেনে ধরে বলে,তোর খাওয়ানোর জন্যে আমি বসে নেই,বুঝলি?লক্ষ্মী কিছুটি বলে না। ধীরে রতনের হাত থেকে চুলের মুঠি ছাড়িয়ে নিয়ে কাজে চলে যায়।

একটু পরেই বাচ্চার ঘুম ভেঙে যায়।আধ পেটা খাওয়া বাচ্চা আবার চীত্কার শুরু করে।রতন ওকে ভোলাবার চেষ্টা করে।কোলে নিয়ে ঘোরে,নাচায়,এ জিনিস ও জিনিস দেখায়,নানা শব্দ করে শোনায় ,কিন্তু খিদের পেট বাচ্চা চুপ করে না,বরং চীত্কার আরও বেড়ে যায় তার।

ভীষণ রাগ হতে থাকে রতনের।দিনের পর দিন ঘরের কোণে চুপ হোয়ে বসে থাকতে থাকতে তার মাথা সত্যি ঠিক নেই যেন।শিশুর চীত্কারে ও অতিষ্ট হোয়ে ওঠে।ওকে কোলে নিয়ে ও এক ঝটকায় ঘরের বাইরে বের হোয়ে যায়।আজ এটাকে ফেলেই আসবো,রাগে সে গজ গজ করতে থাকে।

আজ ফেলেই দেবে এটাকে।কোথায় ফেলা যায় এটা কে?ফেলতে গেলেও লোকচক্ষুর অন্তরালে ফেলত হয়!ওদের তিনটে বাড়ির পরে দেবেন বাবুর বাড়ি।বেশ পয়সাবলা লোক।এত বর বাড়িতে মাত্র দুটি লোকের বাস।দেবেন বাবু ও তার স্ত্রী।রতনের মনে পড়ে গেল কোনো সন্তান নেই ওদের।রাগে ও বাচ্চা কোলে রাস্তা ধরে এগিয়ে চলল।হঠাৎ সামনে ওর চোখে পড়ল দেবেন বাবুদের ঘরের সদর দরজাটা খোলা।বাইরে থেকে কাউকে দেখা যাচ্ছে না।হুট করে রতন সদর দরজা দিয়ে ঢুকে গেলো দেবেন বাবুর বাড়িতে।বাড়ির ভেতর কাউকে দেখতে পেল না।কোলের বাচ্চা নির্জীবের মত পড়ে ছিলো।রতন বাচ্চাকে একটা ঘরের দরজার সামনে শুয়িয়ে রেখে দৌড়ে পালিয়ে এলো রাস্তায়।আর রাস্তার জন সমুদ্রে সে মিশে গেলো।

বছর ঘুরে গেছে রতন ঘরের বাইরে বের হয়নি।তার মনে পড়ল,তার দোকান ঘরের কথা।পুড়ে যাবার পর আর ওই রাস্তা সে মাড়ায় নি।মনে হলো একবার ঘুরে দেখে আসলে কেমন হয়।হন হন করে হাঁটতে লাগলো ও।অনেকটা হাঁটার পর খোলা হাওয়া আর বাইরের আলো বাতাস লেগে ওর মন ধীরে ধীরে শান্ত হতে লাগলো।

এবার ওর মনে হতে লাগলো,না,কাজটা ঠিক করা হয়নি।মোটেও ও ঠিক করেনি।মনে হতেই ওর মাথায় একটা ঝিলিক মারলো।ও ছুটতে লাগলো।ও ছুটতে লাগলো দেবেন বাবুর বাড়ির দিকে।

দেবেন বাবুর বাড়ির সদর দরজা তখন বন্ধ হোয়ে গেছে।রতন কান পেতে শোনার চেষ্টা করল কারো কোন আওয়াজ,কারো কান্না--না,অধৈর্য হোয়ে উঠলো ও।জোরে জোরে দরজা ধাক্কা দিতে লাগলো।

কিছু সময় পর দেবেন বাবুর স্ত্রী বেরিয়ে এলেন।দরজা খুলে রতনকে দেখে বললেন,কে তুমি?
--আমি রতন,বাচ্চাটা,বাচ্চাটা কোথায়?রতন ব্যগ্র হোয়ে বলে ওঠে।
--কিসের বাচ্চা!কার বাচ্চার কথা বলছ তুমি?আশ্চর্য হোয়ে প্রশ্ন করেন দেবেন বাবুর স্ত্রী।রতন ছুটে ঘরে ঢুকে যায়,পাগলের মত বলে ওঠে,এখানে,এখানে আমি বাচ্চা রেখে গিয়েছিলাম।কোথায়,আমার বাচ্চা কোথায়?
--কোনো বাচ্চা তো দেখিনি ! এখানে বাচ্চা আসবে কোত্থেকে?
--আমি,আমার বাচ্চাকে রেখে গিয়েছিলাম!রতন দেবেন বাবুর স্ত্রীর পায়ে পড়ে যায়।বলতে থাকে,দয়া করে আমার বাচ্চা আমায় দিয়ে দিন!বাঁধ ভাঙা কান্নায় ভেঙে পরে রতন।

পাড়ার মন্দিরের পুরোহিত মশাইয়ের নাম প্রবন।মন্দির সংলগ্ন ঘরে তিনি পরিবার নিয়ে বাস করেন।স্বামী ও স্ত্রী,সংসারে দুজন মাত্র লোক।ওরা নিঃসন্তান।বিয়ে হয়েছে আজ আট ন বছর হয়েগেছে।ভগবান ওদের কোনো সন্তান দেন নি।প্রবনের স্ত্রী মা হতে পারে নি।সব চে বড় দুঃখ তাঁর সেটাই।তাদের পয়সা কড়ির বিশেষ অভাব নেই।কয়েক বিঘা জমি যেমন ওদের আছে তেমনি মন্দিরে পুজো করেও মাসে গড় পড়তা পাঁচ হাজার টাকা হয়েই যায়।

দেবেন বাবু পয়সাবালা লোক।মন্দিরের পূজারীর প্রতি মাসের মায়না তিনিই দেন।স্ত্রীর কথায় দেবেন বাবু এ খরচের ভার মাথায় তুলে নিয়েছেন।গরীব দুঃখী ব্রাক্ষ্মণদের দিলে নাকি পুণ্যের সঙ্গে সঙ্গে ঘরের পয়সাও বাড়ে--এটা দেবেন বাবুর স্ত্রীর কথা।আর সত্যি তো ভগবানের ইচ্ছায় তাঁদের অর্থের কোনো অভাব নেই!

সে দিন মন্দিরের পুরোহিত প্রবন বাবু দেবেন বাবুর বাড়ি মাসের বেতন নিতে এসে ছিলেন।দেখলেন সদর দরজা হাট করে খোলা।ঘরের ভেতর দিক থেকে ছোট বাচ্চার কান্না ভেসে আসছিল।দরজা দিয়ে ভেতরে ঢুকে গেলেন প্রবন।সামান্য এগিয় গিয়ে দেখলেন,একি!এক শিশু দেবেন বাবুর বৈঠক ঘরের দরজার সামনে পড়ে আছে!হাত পা ছুঁড়ে সে কান্না করছিল।প্রবন চীত্কার করে ডেকে উঠলেন দেবেন বাবুকে।দু তিন বার ডাকার পরও কেউ শুনলো না।

প্রবন ঠাকুর আর ডাকলেন না।তাঁর মনের মোধ্যে একটা স্বপ্ন চাড়া দিয়ে উঠলো।নিশ্চয় কেউ এ শিশুকে ইচ্ছে করে ফেলে রেখে গেছে।দেবেন বাবুর পরিবারে কোনো সন্তান নেই।এটা জেনেই নিঃস্ব কোনো গরীব তাদের সন্তান ফেলে রেখে গেছে।জানে তাদের শিশু এখানে না খেতে পেয়ে মরবে না।প্রবনের মনে হঠাৎ একটা চিন্তা খোঁচা মেরে উঠলো।আমার ঘরেও তো সন্তান নেই।তবে আমিও তো তুলে নিতে পারি ওকে!আমিও তো আমার স্ত্রী,প্র্তিমার কোলে তুলে দিতে পারি এ অভাগা শিশুকে?
প্রবন ঠাকুর কোলে তুলে নিলেন শিশুকে।নিজের পরনে ধুতি পাঞ্জাবির সঙ্গে সব সময়ের সাথী তাঁর কাঁধে ভাঁজ করা চাদর শরীরে বেড় দিয়ে তাতেই যতটা সম্ভব ঢেকে নিলেন শিশুটিকে।যাতে যথা সম্ভব শিশুকে অন্যের চোখ বাঁচিয়ে ঘর পর্যন্ত পৌঁছানো যায়।তিনি ধীর পদে হাঁটা দিলেন নিজের ঘরের দিকে।কেউ তাকে বাঁধা দিলো না।কোনো দাবীদার তার সন্তান বলে দাবি করল না।

প্রবন ঠাকুর শিশুকে নিয়ে প্রতিমার কোলে তুলে দিলেন।প্রতিমার চোখ মুখ উজ্জ্বল হোয়ে উঠলো।আনন্দে আত্মহারা হোয়ে গেলো।উচ্ছ্বাসে সে বলে উঠলো,কোথায় পেলে,কোথায় পেলে গো ওকে?

শিশু তাকিয়ে ছিলো মার দিকে।স্নেহ ভালবাসার উষ্ণতায় ও গদ গদ হোয়ে উঠছিল!

এদিকে লক্ষ্মী তার সন্তান খুঁজে ফেরে।চীৎকার করে কেঁদে উঠে সে।পাগলিনীর প্রায় কাঁদতে কাঁদতে সে রতনের বুকে কিল,ঘুষি দিতে থাকে।চীত্কার করে বলতে থাকে,আমার ছেলে কোথায়?আমার ছেলেকে কোথায় ফেলে এসেছ?আমার ছেলেকে তুমি এনে দাও!পাগল প্রায় লক্ষ্মী এঘর ও ঘর ছুটে বেড়ায়।ঘরের দরজা খুলে রাস্তায় দৌড়ে বেড়ায়।এখানে ওখানে ,অলিতে গলিতে সে ছুটতে থাকে!

কোথাও নেই বাচ্চা।রতন খুঁজেছে রাস্তা ঘাটে,আশেপাশের ঘরবাড়ি--সম্ভাব্য সব জাগায়।

দেখেছে রতন দেবেন বাবুর বাড়ি সে বাচ্চা যায় নি।সে ঢুকে পড়েছিল দেবেন বাবুর বাড়ি।তাঁর স্ত্রীর বাধা দেওয়া সত্ত্বেও তাদের সবকটা ঘর সে ছুটে ছুটে দেখে নিয়ে ছিলো।নেই,সেখানে নেই।তবে কে নিয়ে গেলো তার বাচ্চাকে?

দেবেন বাবুর স্ত্রী কেবল বলেছিলেন,কেউ তো একজন এসে ছিলো,তার গলার অস্পষ্ট আওয়াজ তিনি শুনতে পেয়েছিলেন।কার সে গলা তা বলতে পারেন নি।

রতন তার ঘরের এক কোণে অন্ধকারে চুপ করে বসে থাকে।লক্ষ্মী তখন ঘরের দেওয়ালে মাথা খুঁট ছিলো।রতন বলে উঠলো বাচ্চাকে এনে দেবো গো,আমি খুব ভুল করেছি,বুঝতে পারি নি,সমস্ত ঘটনা রতন লক্ষ্মীকে খুলে বলে ছিল।

খানিক সময় স্তব্ধ হোয়ে ছিলো লক্ষ্মী।হঠাৎ সে ঘর থেকে দৌড়ে বেরিয়ে গেলো।দেবেন বাবুর ঘরের দরজায় গিয়ে আঘাত করতে লাগলো।দেবেন বাবু দরজা খুলতেই তাঁর পায়ে লুটিয়ে পড়ে কেঁদে উঠলো,আমার বাচ্চা দিয়ে দিন বাবু,আমার বাচ্চা দিয়ে দিন।
--আমার কাছে নেই বাচ্চা,আমি স্ত্রীর কাছে শুনেছি,অন্য কারো হাতে পড়েছে।সে নিয়ে গেছে তোমার বাচ্চা।
--কে,কে?বলে কাঁদতে থাকে লক্ষ্মী.

রতনের বুক খাঁ খাঁ করে ওঠে।রাগের মাথায় সে কাজটা করে ফেলেছিল  বটে। পরক্ষণেই তার চেতনা যখন ফিরল,তত সময়ে সব শেষ হোয়ে গেলো,বাচ্চা তার চুরি হোয়ে গেলো!

দেবেন বাবুর এক জাগায় সন্দেহ হয়েছিল।যাকে তিনি সন্দেহ করছিলেন তার ওখনে যাবেন যাবেন করেও মাস তিন সময় লেগে গেলো।এক দিন সময় করে তিনি পৌঁছালেন প্রবন ঠাকুরের বাড়ি।

প্রবন ঠাকুর দেবেন বাবুকে দেখে আশ্চর্য হোয়ে বললেন,কি সৌভাগ্য আমার,আপনি আমার ঘরে পা রেখেছেন!

দেবেন বাবু বললেন,তোমার কাছে একটা জরুরী কথা জানার আছে প্রবন!
--কি কথা বলুন,আশ্চর্য হোয়ে বললেন প্রবন।তাঁর অন্তঃমনে ভয়ের সঞ্চার হলো বই কি!
--তোমার তো কোনো সন্তান নেই,তাই না?
--না,আমি তো নিঃসন্তান,আপনি জানেন!এমনি সময় প্রনবের ঘর থেকে বাচ্চার কান্নার আওয়াজ ভেসে আসতে থাকলো।

দেবেন বাবু গভীর দৃষ্টি নিয়ে প্রবনের দিকে তাকালেন।ভীত সন্ত্রস্ত  প্রবনের চোখ ছল ছল করে উঠলো।ও কাঁদতে কাঁদতে দেবেন বাবুর হাত চেপে ধরে বলে উঠলো,হ্যাঁ,আমি স্বীকার করছি,আমি আপনার ঘরের দোর থেকে একটা বাচ্চা পেয়েছি।সে আজ আমাদের সন্তান হোয়ে গেছে বাবু!সে বাচ্চাকে যদি কেউ দাবী করে তবে আমার স্ত্রী মরে যাবে বাবু!কাতর ভাবে কেঁদে ওঠেন প্রবন ঠাকুর।

--আমি কি করি বলো প্রবন ঠাকুর?আমি তো উভয় সঙ্কটে পড়েছি।রতন আর রতনের বৌয়ের দুঃখ তো চোখের সামনে দেখতে পারছি না!.

এবার দেবেন বাবুর পায়ে পড়ে গেলেন প্রবন।আমাদের বাঁচান আপনি।দয়া করে ওদের বলবেন না বাবু!এমন সময় বাচ্চা নিয়ে প্রতিমা ঘরে ঢোকে।ঘটনার কথা জেনে প্রতিমা কেঁদে উঠে,আমি মরে যাবো বাবু,এ বাচ্চা ছাড়া আমরা বাঁচব না।

দেবেন বাবু ওঁদের শান্ত করলেন।বললেন ঠিক আছে,আমি বলব না।তবে সত্যি যে কোনো দিন প্রকাশ পেয়ে যেতে পারে।সে দিনের কথা ভেবে তোমরা নিজেদের একটু শক্ত করে রেখো।

দেবেন বাবু আর দাঁড়ালেন না।ধীর পায়ে প্রবন ঠাকুরের ঘর থেকে বেরিয়ে এলেন।প্রবন ও প্রতিমা ভবিষতের ভাবনায় দুঃখে বুক বাঁধতে চেষ্টা করে।

দেবেন বাবুর মায়া হয় রতন ও লক্ষ্মীকে দেখলে।রতন,লক্ষ্মী মাঝে মাঝে তাঁদের ঘরে আসে।খোঁজ নেয় তাদের সন্তানের ব্যাপরে।
দেবেন বাবু বেশ বিমর্ষ হোয়ে পড়েন।মিথ্যে কথা বলার ইচ্ছে না হলেও প্রবন ঠাকুরের পরিবারের কথা চিন্তা করে মাথা নাড়িয়ে না,করতে হয় ওদের!রতন অনেক সামলে নিয়েছেনিজেকে।নিজের অন্যায় সে মাথা পেতে লক্ষ্মীর কাছে প্রতি নিয়ত স্বীকার করে চলেছে।লক্ষ্মীর চোখের জল ফুরিয়ে গিয়েছে।আর সে কাঁদতে পারে না।মাঝে মাঝে বুকে তার ব্যথা হয়।সে ব্যথা পুরনো কথা মনে করিয়ে দেয়..
 রতনের জীবনে পরিবর্তন এসেছে।সে লোন নিয়ে আবার ছোট একটা দোকান দিতে পেরেছে।সংসারের  আর্থিক অবস্থা আগে থেকে অনেকটা ফিরেছে।কিন্তু শান্তি!তা আর কোনো দিন ফিরবে না!নিজের হাতে সে সন্তানকে বিসর্জন দিয়ে এসেছে।আজ বছর ঘুরে যাবার পরও রাস্তা ঘাটে যেখনেই ছোট বাচ্চা দেখে সে থেমে যায়,মনে পড়ে যায় সেই দিনের কথা।

পথে ঘাটে যেখানেই দেবেন বাবুর সঙ্গে তার দেখা হয় অনিচ্ছা সত্ত্বেও প্রশ্নটা তার মুখ থেকে বেরিয়ে আসে,বাবু! কিছু সংবাদ আছে?
সে দিন তাই হলো দেবেন বাবু আর মন্দিরের পুজারী এক সঙ্গে যাচ্ছিলেন।পথে রতনের সঙ্গে দেখা হলো।রতনকে দেখা মাত্র কেমন যেন অস্বাভাবিক হোয়ে গেলেন মন্দিরের পুজারী।বারবার আড় চোখে সে রতনকে দেখে যাচ্ছিল।দেবেন বাবুর মুখও যেন অনেক শুকিয়ে গিয়েছিল!

ম্লান হেসে রতন জিজ্ঞেস করেছিল,বাবু! কোনো খোঁজপেলেন? দেবেন বাবু পূজারীর চোখের দিকে তাকিয়ে পর মুহূর্তে বলে উঠলেন,না।
রতনের সে দিন মনে তেমন খটকা লাগে নি।সে নিজের কাজে চলে গেলো।

এমনি আরও দীর্ঘ পাঁচ ছটা বছর কেটে গেলো।লক্ষ্মী,রতনের চেহারা অনেক বুড়িয়ে গেছে।সন্তানের কথা মা,বাবা কখনো কি ভুলতে পারে!লক্ষ্মীর কোলেও আর কোনো সন্তান আসে নি।

রবিবার রতনের দোকান বন্ধ থাকে।ওই দিন হাতে তার কিছু সময় থাকে।ঘরের কাজ কর্ম বাজার ঘাট,প্রয়জনীয় দোকানের বিক্রির কাপড় চোপড় ওই দিনই কিনে নেয়।সে দিন কোনো কাজে সে মন্দিরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিল।হঠাৎ তার চোখে পড়ল,প্রবন ঠাকুর রাস্তা ধরে হেঁটে যাচ্ছেন--তাঁর সঙ্গে হাত ধরে চলেছে তাঁর পাঁচ ছ বছরের ছেলে।রতনের মনে পুরনো দিনের কথা মনে পড়ে গেলো।মনে হলো,আচ্ছা প্রবন ঠাকুর তো নিঃসন্তান শুনে ছিলো রতন।তবে কি তাঁর ইতিমোধ্যে কোনো সন্তান হয়েছে!যার কোনো খোঁজ এত দিন রতন রাখে নি!সে এগিয়ে গেলো প্রবন ঠাকুরের কাছে,পেছন থেকে ডেকে উঠলো,ঠাকুর মশাই!

গলা শুনেই চমকে উঠলেন প্রবন ঠাকুর।ফিরে দেখল সামনে দাঁড়িয়ে রতন।ওঁর মুখটা সঙ্গে সঙ্গে শুকিয়ে গেলো।ফেকাশে মুখে তবু অনেক চেষ্টায় হাসির রেখা ফুটাতে চেষ্টা করল,বললো,আরে রতন কোথায় যাচ্ছ?রতন কোনো জবাব না দিয়ে ছেলেটির দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল,এ ছেলেটা কে?

প্রবন ঠাকুর পরিষ্কার জবাব দিতে পারলেন না,আমতা আমতা করে বলে উঠলেন,ওই,ওই,আমার ছেলে।
--শুনি নি তো কবে হলো আপনার ছেলে?রতন যেন জেরা করে উঠলো প্রবনকে।

তেমনি ফেকাশে মুখ নিয়ে প্রবন বলে উঠলেন,তুমি জান না--পাঁচ,ছ,বছর আগেই তো--রতনের কানে কিছু কথা ঢুকলো,কিছু না,সে ছেলেটার দিকে তাকিয়ে থাকলো।সে আশ্চর্য হোলো,আরে ছেলেটাকে যে দেখতে অনেকটা লক্ষ্মীর মুখের আদলের মত!কেন জানে না সে ছেলেকে তার খুব,খুব চেনা চেনা মনে হতে লাগলো!

প্রবনের রতনের মুখ চোক দেখে ভালো ঠেকলো না।তিনি ছেলেকে ডাকলেন,মৃনাল,চল বাবা,আমরা ঘরে যাই।আর কোনো কথা না বলে ছেলেকে যেন টানতে টানতে নিয়ে বাড়ির দিকে পালিয়ে গেলো।

রতন থ মেরে দাঁড়িয়ে থাকলো।কে ছেলেটা?সত্যি কি ও প্রবন ঠাকুরের ছেলে!তবে প্রবন ঠাকুরকে এত অস্বাভাবিক লাগছিল কেন?কেন নিজের ছেলে বলতে গিয়ে সে তোতলাচ্ছিল?এমনি প্রশ্ন তার মাথায় ঘুর পাক খাচ্ছিল।রতনের মনের মোধ্যে সন্দেহের গিঁট বেঁধে গেলো।মনে মনে ভাবলো,দেখতে হবে,ওই ছেলে প্রবন ঠাকুরের ছেলে--না অন্য কেউ?

পথে এর আগেও রতন প্রবন ঠাকুরকে দেখেছে।আর যত বার দেখেছে সে লক্ষ্য করেছে তাকে সে এড়িয়ে গেছে।প্রবন নিজেকে যেন আড়ালে আবডালে করে নিয়েছে।আজ যেন রতন আরও ভালো ভাবে বুঝতে পারছে,কিছু একটা লুকোতে চাইছে প্রবন  ঠাকুর!
পর দিন দোকান কামাই করে রতন মন্দিরের আশপাশের দু একটি বাড়িতে খোঁজ নিতে বেরোলো।উদেশ্য,প্রবনের সন্তানের ব্যাপরে জানার।কেউ বললো,ওর সন্তান,কেউ বললো,আমরা বলতে পারব না।প্রবনের ঘরের দুটো ঘর পরের ঘর থেকে বললো,আমাদের সন্দেহ হয় ও কুড়িয়ে পাওয়া সন্তান বলে!

রতন আর দাঁড়ালো না।সে দেবন বাবুর বাড়ির দিকে জোরে জোরে পা ফেলে হাঁটতে লাগলো।ঘরের সামনেই দেবেন বাবুকে পেয়ে গেলো।রতন আজ গলা চড়িয়ে ডেকে উঠলো,বাবু!

দেবন বাবু থেমে গেলেন।রতনকে আজ অস্বাভাবিক দেখাচ্ছিল।
--বাবু! প্রবন ঠাকুরের ঘরের ছেলেটা কার?
--আমি জানি না,দ্বিধা গ্রস্ত দেবেন বাবু বলে উঠলেন।
--আপনি জানেন বাবু!রতন কাকুতি মিনতি করে বলে উঠলো ,আপনি জানেন বাবু।দেবেন বাবুর ভিতেরে ভিতরে দৃঢ় ভাব ভেঙে

যাচ্ছিল!তিনি আর কথা বলতে পারলেন না,স্থির হোয়ে দাঁড়িয়ে থাকলেন।

রতন তাড়াতাড়ি ঘরে এলো।লক্ষ্মীকে বললো,পেয়ে গেছি,পেয়ে গেছি লক্ষ্মী, আমাদের ছেলেকে আমরা পেয়েগেছি!লক্ষ্মী চমকে চোখ তুলে চাইল।ওর চোখ দুটো হঠাৎ যেন খুশিতে চকচক করে উঠলো।বলে উঠলো,কোথায়,কোথায় আমার ছেলে?
--চলো,এক্ষনি যেতে হবে।

ওরা পবন ঠাকুরের বাড়িতে গিয়ে কড়া নাড়ল।প্রবন ঠাকুর দরজা খুলে ওদের দেখে চমকে উঠলো।অধৈর্য রতন বলে উঠলো,কোথায় আমাদের ছেলে?
--না,না,ও আমাদের ছেলে।মৃনাল আমাদের ছেলে।বলতে বলতে প্রবনের বলার দৃঢ়তা ক্রমশঃ কমে যেতে লাগলো।

প্রতিমা জানতে পেরে,চীত্কার করে উঠলো,না,ও আমার ছেলে,আমার মৃনাল, তোমরা চলে যাও,তোমরা চলে যাও।বলে কেঁদে ওঠে প্রতিমা।    

মৃনাল ভয়ে ভয়ে এসে দাঁড়ায়।প্রতিমার কান্না দেখে ও কেঁদে ওঠে,মা,মা!কি হয়েছে মা?ও সরল প্রশ্ন করতে থাকে।লক্ষ্মী মৃনালের হাত ধরে টানে,বাবা! তুমি আমার কাছে এসো--আমি তোমার মা।

এক ঝাপটা মেরে মৃনাল লক্ষ্মীর হাত সরিয়ে দেয়।বলে আরে,আমার মাকে তোমরা বকছ কেন?তোমারা চলে যাও এখান থেকে,চীত্কার করে ওঠে মৃনাল।
এমনি সময় দেবেন বাবু এসে হাজির হন।উভয় পক্ষকে শান্ত করেন তিনি।

মৃনাল কেঁদে ওঠে,না,না,আমার মা এটা,বলে প্রতিমাকে জড়িয়ে ধরে।সে কিছুতেই যাবে না লক্ষ্মীর কাছে।

প্রবন ঠাকুর,প্রতিমা কাঁদছেন।রতন ও লক্ষ্মী কাঁদছে।কারা পাবে মা,বাবার দাবি?মৃনাল ছোট থেকে জানে তার মা প্রতিমা।সে কেন যেতে চাইবে লক্ষ্মী রতনের ঘরে!

দেবেন বাবু মৃনালকে বললেন,দেখো বাবা!এরাও তো তোমার মা,বাবা।

মৃনাল কেঁদে উঠে বলে,না,না,কখনো না।এরা ভালো না।এরা খারাপ,এরা আমার মা,বাবা না।

কিছুতেই মৃনালকে রতন,লক্ষ্মী নিজের ঘরে নিয়ে যেতে পারলো না।

রতন ও লক্ষ্ণী বিফল মনোরথ হোয়ে বড় দুঃখ নিয়ে ফিরে এলো ঘরে।

যতবার মৃনালকে নিতে যায় তত বার কেঁদে ভাসায় ও।কিছুতেই সে যেতে চায় না রতন,লক্ষ্মীর ঘরে।চীত্কার করে বলে ওঠে,না আমি যাব না!

প্রতিমা ও প্রবন ঠাকুর চায় মৃনাল কাউকে দুঃখ না দিক।রতন ও লক্ষ্মী কেও ও মেনে নিক।কিন্তু মৃনাল কোনো কথা শোনে না।
অগত্যা রতন,লক্ষ্মী মৃনালকে কাঁদাতে চায় না।প্রায় রোজ একবার ওরা প্রবন ঠাকুরের বাড়ি গিয়ে মৃনালকে দেখে আসে।

একটা বছর এভাবেই কেটে গেলো।মৃনাল এখন ক্লাস ফোরে উঠেছে।এখন আর ও রতন ও লক্ষ্মীকে দেখে চীত্কার করে না।তবে প্রতিমাকে ছেড়ে সে কোথাও যাবে না।রতন ও লক্ষ্মী নিজেদের জোরালো দাবি নিয়ে যেতে পারে না মৃনালের কাছে।সন্তান তাদের সুখে থাক এটাই তারা চায়।আর মনে আশা রাখে নিশ্চয় ছেলে বড় হলে বুঝবে।তার আপন মা,বাবাকে নিশ্চয় দূরে ফেলে রাখতে পারবে না!

মৃনাল এখন ক্লাশ সিক্সে পড়ে।ওর বয়স এগার বছর।ছেলে কিছু কিছু বুঝতে শিখেছে।

একদিন রতন ঘরে ছিলো না।লক্ষ্মী একা ঘরে ছিলো।বাইরে থেকে কেউ দরজা খটখটালো।একবার,দুবার,তিনবার ঠক ঠক শব্দ হবার

পর লক্ষ্মী এসে দরজা খুলেই দেখল মৃনাল এসেছে!মুখে তার লেগে আছে মৃদু হাসির রেখা।
--বাবা,তুমি! একা এসেছ বাবা?

মাথা নেড়ে,হ্যাঁ বললো মৃনাল।লক্ষ্মীর দু চোখ দিয়ে জলের ধারা নেমে এলো।বলে উঠলো,আয় বাবা!কোলে আয়!

এগিয়ে এলো মৃনাল।লক্ষ্মী বুকে ঝাপটে ধরলো ছেলেকে।

মৃনাল বলে উঠলো,কাঁদছ কেন মা?

মা,লক্ষ্মী তার জীবনের সব সুখ যেন একবারে পেয়ে গেলো!ছেলেকে জড়িয়ে ধরে অঝরে সে কাঁদতে থাকলো।
--এখন থেকে তুই এখানে থাকবি তো বাবা!
--হ্যাঁ,আমি দুই মায়ের বাড়িতেই থাকবো মা!

লক্ষ্মী ছেলের সারা মুখে স্নেহ চুম্বন এঁকে দিতে লাগলো। 


Enhanced by Zemanta