Mon Diye Jaye Chena - A Bengali Short Story By Sudipuddin Srirampuri (মন দিয়ে যায় চেনা ...) | Bengali Online Magazine

"Mon Diye Jaye Chena" - a Bengali short story by Sudipuddin Srirampuri. This post is in Unicode Bengali font.


মন দিয়ে যায় চেনা ...

সুদীপ উড্ডীণ শ্রীরামপুরী


-শুনছো, এদিকে এসো তো একবার!

-কি হলো? ... ... ... বলো কি বলবে?


-পাঞ্জাবীটা ছাড়ো ... গরম হবে। হাল্কা, পাতলা পাঞ্জাবীটা বিছানার ওপর রাখা... ওটা পড়।

-এটা তো ঠিকই আছে। ঐটার রং ফ্যাকাসে হয়ে গেছে। এটাই পড়ি। ......

কথায় কথা বাড়ে। পাঞ্জাবীটা না পড়ায় প্রিয়ার গজ্‌ গজ্‌ করাটা কিছুক্ষনের জন্য স্বাভাবিক। মনে মনে আমিও একটু বিরক্ত। ব্যাক্তিগত ব্যাপারে অন্যের কথা কিম্বা নাক গলানো আমার ‘নাপসন্দ’। প্রিয়ার দিক থেকে ব্যাপারটা হয়তো অন্যরকম। প্রিয়া বোধহয় মনে করে, এই খেয়াল রাখাটা স্বামীর প্রতি স্ত্রীর কর্তব্য কান্ডের অংশ বিশেষ।

মানলাম, সংসারে একত্রে থাকার জন্য অন্যের প্রতি খেয়াল রাখাটা দরকার। সময় বিশেষে অন্যপক্ষের সমর্থণ সাংসারিক ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে। তার সত্বেও এটা ভাবা অন্যায় হবে না যে, স্বামী বা স্ত্রীর ব্যাক্তিগত আশা আকাঙ্খা, ভাললাগা জাতীয় ব্যাপারে অযথা খেয়াল রাখার বিপদ আছে। এই ধরনের ব্যাপারে দুই তরফে অনেকদিন মেনে নেওয়া্য় বা মানিয়ে নেওয়ায় সমস্যা তৈরী হবার সম্ভাবনা বাড়ায়।

-কোথায় যাচ্ছ? এইতো অফিস থেকে ফিরলে? বাড়িতে থাকতে মন চায় না?

-এই একটু ঘুরে আসছি ছাদ থেকে।

-আবার ছাদে কেন? হিম পড়ছে... শরীর খারপ করলে... ফ্যাচ্‌ ফ্যাচ্‌ করবে তো আমারি সামনে... যত্ত সব ঝামেলা আমাকেই পোয়াতে হবে।

-কিছুক্ষন একলা থাকতে ইচ্ছে করছে ... (এটা বললেই বিপদ আরো বাড়বে ... জানতাম ... তাও বললাম!)

-আর আমি যে সারাদিন একলা একলা সংসারের সব কাজ করছি ... ঝি-গিরি করছি ... কই আমার তো সখ করে একলা থাকতে ইচ্ছে করে না? বুঝি ... বুঝি ... সব বুঝি ... আমার সঙ্গে না থাকার বাহানা। আমার তো আর সখ আহ্লাদ থাকতে নেই ... যাও যাও যেখানে মন চায় সেখানে যাও। আমি আমার মতো থাকি।

এমন অনেক ঘটনা, ইচ্ছে, অনিচ্ছে থাকে যা ব্যাক্তির ইচ্ছাধীন থাকা বাঞ্ছনীয়; সেখানে যেন তার স্বাভাবিক ব্যবহার গতিরুদ্ধ না হয়। স্বাধীন মনোবৃত্তির বিকাশ হবার সুযোগ থাকে। এটাই স্বাভাবিক। প্রতিহত বিকাশে ব্যাক্তিমানস একধরনের যন্ত্রণা অনুভব করে।

মানুষ স্বাধীনতা ভোগী; পৃথিবীর অন্যান্য প্রাণীর মতো। প্রাণী সমাজে জীবনের প্রথম পর্বে অনুকরণ, অনুশাসন (যন্ত্রণা বা সুখ অনুভবকারী) স্থান-কাল-পাত্র নির্ভর আচরণ শিখতে সাহায্য করে। এসবই পরবর্তী কালে প্রাকৃতিক চাহিদাপূরণ সক্ষম প্রাণী হিসাবে বেশী সময়ের জন্য বেঁচে থাকতে সাহায্য করে। এটাই প্রাকৃতিক নিয়ম। জৈবরাসায়নিক স্নায়ু তন্ত্রের অভিযোজন স্বীকার না করলে, যাই কোথায়?

মানুষের ক্ষেত্রে প্রাথমিক ভাবে তেরো-চোদ্দো অনুকরণ ও অনুশাসন, পরের পাঁচ বছর অনুশীলন-অভ্যাস, আঠারো পর্য্যন্ত; তার পরের সাত, অর্থাৎ প্রায় পঁচিশ বছর সূক্ষ্ম সামাজিক চাহিদা নির্ভর বিকাশ অত্যন্ত জরুরী। পঁচিশ বছর পর্য্যন্ত সামাজিক বাতাবরণে পর্যাপ্ত সুযোগ থাকে মস্তিষ্কের সূক্ষ্ম বোধকে উন্মিলিত করার। এই শেষের সাতটা বছরই গন্ডোগোলের ... কখনো প্রয়োগ হয় না, বা কখনো সু্যোগ পায় না বা কখনো উন্মিলিত করার ক্ষমতা থাকে না। পঁচিশ বছর পর, বিবাহোত্তর জীবনে বা জোটবাঁধা জীবনে - ইচ্ছে, অনিচ্ছে, বোধ, ধারণা সব নিয়ে বিস্তারিত অভিজ্ঞতা লাভ করে।

-শুনছো!

-বলো, তাড়া আছে... যা বলার তাড়াতাড়ি বলো। ভাতটা উনুনে ... ধরে যাবে।

-এ মাসে খরচ একটু সাবধানে করো; সামনের মাসে ভুচুর বিয়ে তে খরচা আছে।

-হ্যাঁ, তোমাকে কে বলা হয়নি ... আমি চারগাছা চুড়ি, প্রায় তিন-ভরি হবে, গড়তে দিয়েছি ... ভেবেছিলাম তোমাকে জানাব ... তালেগোলে ভুলে গেছি। কি ঠিক আছে তো ...। নাকি আরো একটা আংটি গড়িয়ে নেবো?

-তোমার আর কি! তুমিতো আর দক্ষিণী ভারতীয় মহিলাদের মতো কাপড় পড়তে শেখোনি! আমাকে বাঙ্গালীদের মতো কাছা দিয়ে ধুতি পড়তে হয়। সামলাতেও হয়।

-ঠেশ্‌ না দিয়ে কথা বলতে কবে যে শিখবে! সোজা সাপ্টা কথা বলা তোমার বংশে থাকলে তো?

-না, আমি বলছিলাম কি ... সামলাবো কি করে? দিল্লী যাতায়াতের একটা খরচ আছে তো না কি?

-তা আছে, তবে আত্মীয় স্বজনের ব্যাপার ... তোমার মা ঠারে ঠোরে শোনাবে তো আমাকেই ... দরকার কি অত শত শোনার। ননদের মেয়ে ভুচু ... দিতে হলে ভাল দেওয়াই ভালো দেখাবে ... মেয়ের মামার বাড়ী বলে কথা।

দুটি মানুষ, ভিন্ন পারিবারিক অভিজ্ঞতাপুষ্ট। ছোটবেলা থেকে বড়বেলা (প্রায় পঁচিশ বছর ... দিন ... ঘন্টা ... মিনিট ... সেকেন্ডের হিসাবে সাতশো অষ্টাশি কোটি চল্লিশ লক্ষ সেকেন্ড) কেটেছে, বেঁচে থাকার অভিজ্ঞতায় রিদ্ধ হয়েছে। জীবন কাটাবার “চিত্রনাট্যের” খসড়া তৈরী করতে করতে অভিনয় শূরু করেছে। প্রতিটি মানুষ তার জীবন নাটকের “চিত্রনাট্য” তৈরী করে তার লব্ধ অভিজ্ঞতার আঁচে। বেশির ভাগ মানুষের ক্ষেত্রে, “চিত্রনাট্য” পঁচিশ বছরে পরিপূর্ণতা লাভ করে।

তার নাটকে সে নিজেই নাট্যকার, পরিচালক, পরিবেশক, আর অভিনয় তাকেই করতে হয়। বাকী চরিত্রের বেশীর ভাগটাই তার প্রথম ও দ্বিতীয় বৃত্তের আত্মীয়, পরিজন, বন্ধুরা। পরবর্তী কালে প্রথম বৃত্তে সামাজিক বন্ধনযুক্ত স্ত্রী- স্বামী ও পুত্রকন্যারা এবং সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নাতি-নাতনিরা। ব্যাক্তি বিশেষের চিত্রনাট্য তার স্থান-কাল-পাত্র অনুযায়ী সামান্য পরিবর্তন, পরিবর্ধন বা পরিমার্জন করে। অনেকটা শ্রীপুর ... মামুদপুর ... গোসাবা ... কিংবা গরুমারায় নাটকের প্রয়োজনে মূল ভাবনা অক্ষুন্ন রেখে পরিবর্তন করা। যেমন চেয়ার না পেয়ে চায়ের পেটি কিংবা কোন এক চরিত্রের শরীর খারাপ হলে অন্য চরিত্রের মুখে তার কথাটা বসিয়ে নাটকের ঐ অংশ অভিনীত করাতে হয়। খেয়াল করে দেখুন, আমাদের দৈনন্দিন জীবনে আমরা এই কাজটা সুনিপুন ভাবে করি না কি? করি। সংসারের এটাই রেওয়াজ। যেটা আমার বলা সাজে না... তা একটু কলকাঠি নেড়ে এমন একটা অবস্থার সৃষ্টি করি (নাটক!!) যাতে অন্য চরিত্রের যা বলা সাজে, (আমার নিজের কথা, চাহিদা) তাকে দিয়ে বলিয়ে নিই। আপনারা বিদগ্ধজন ... আপনারা জানেন এই রকম হয় ; তাই বলছিলাম, প্রিয়া যখন আমার খোল-নলচে অদল-বদল করে তখন সে পরিচালিকা-অভিনেত্রী; অন্য দিকে আমার নাটক মার খাচ্ছে কিংবা মার খেতে পারে ... এই ভাবনায় আমার বিরক্তি। আমার ইঙ্গিতটা বুঝেছেন আশা করি। বুঝলেই ভালো। তাহলে শেষমেশ কি হলো? একটা মঞ্চ, পরিচালনায় দুজন ... একি সঙ্গে একে অন্যের অভিনেতা বা অভিনেত্রী। দুজনেই চায় তার চিত্রনাট্য অনুযায়ী অভিনয় হোক। যে সংসারে স্থান-কাল-পাত্র ভেদে একজন পরিচালনার দায়িত্বে ... অন্যজন চিত্রনাট্য অনুযায়ী অভিনয় করছে, সেখানে গজ্‌ গজ্‌ নেই, ঝঙ্কারও নেই, মৃদুমন্দ সুমধুর পবন বাহিত প্রেমের দৃশ্য।

-মানে তুমি কি বলতে চাইছো? একজন পরিচালনা করলেই সংসারের মঙ্গল?

-উহুঁ, হলো না।

-কি হলো না?

-ঐ নাটকে একজনই পরিচালনা করছে এটা জানতে চাইছো বা বলতে চাইছো তো?

-হ্যাঁ ... তো?

-বলছিলাম কি, ওখানেও দুজন আছে, দুজনের দুধরনের চিত্রনাট্য।

-মানে?

-মানে আর কিছুই না ... ব্যাপারটা খুব সহজ ... ওই নাটকে একজনের পরিচালনায়, চিত্রনাট্য অনুযায়ী চরিত্র অভিনীত হচ্ছে বটে; তবে অন্যজন গোবেচারা ভাবলে হবে না।

-তা কেন? যাই হোক না কেন, পরিচালক একজন কিনা?

-তাই কি? ভালো করে খেয়াল করলে দেখো ... অন্যজনের চিত্রনাট্য ঐ রকম। তার নাটকে একজন “পরিচালকের” ভূমিকায় অভিনয় করবে; এই ভাবে ঐ চিত্রনাট্য সে লিখেছিলো। এ ক্ষেত্রে “পরিচালকের” অভিনয়টা আসলে তার চিত্রনাট্য অনুযায়ী।

-সত্যি তো! ওগো তোমার বুদ্ধিটা কি প্যাঁচালো ... তাই তো বলি, তোমার সঙ্গে আমার কেন এতো ... ...

-লাগবেই তো ... আমার চিত্রনাট্য অনুযায়ী তোমার মতো জুত্‌সই অভিনেত্রীর দরকার ছিলো। তাই তো ময়দানে বাদাম খোলা, ঘাস চিবিয়ে, এদিক ওদিক অনেক গবেষণা্র পর (গো + এষণা, ক্লাস এইটের ব্যাকরণ মনে আছে নিশ্চয়), তোমার গলায় মালা(?) ধরে বললাম, “ধর্মাবতার এটাই আমার হারানো” ...

-আ্যঁই, আ্যঁই ... হচ্ছেটা কি? যা নয় তাই বলছো? এটা নাটকের সংলাপ হলে যাচ্ছেতাই হবে কিন্তু।

-হলে হবে! নাটক আরও ‘না-টক্‌’ হবে।

দেখেছেন কেমন জম্‌ছে। সম্পর্ক গুলো এরকমই। দই জমাবার দম্বল মাঝে মাঝে পাল্টাতে হয়। শুনেছি, জানিনা ঠিক কিনা ... দইয়ের জীবানূ গুলো বারবার বংশবৃদ্ধি করতে করতে ওদের ধক্‌ কমে যায়। নতুন দম্বলে ধক্‌ ফিরে আসে। সংসারেও মাঝে মাঝে ধক্‌ পাল্টালে কেমন হয়?


একবার কথায় কথায় প্রিয়াকে বলেছিলাম,

-চন্দ্রমুখী!(ভাগ্যিস্‌ বাজারে যায় না ... !!! )

-কী ন্যাকামী হচ্ছে? যত্ত সব ‘ভীমরতি’... বয়স যেন কমছে!

-তোমাকে দেখলেই ও রকম হয়। রতি প্রাবল্য ভীমের ন্যায় হয়! একটা কথা বলব?

-গেল যা! কি বলবে কি?

-গতকাল রাতে, তোমার আমার সম্পর্ক মধুর করার দুটো রাস্তা সপ্নাদৃষ্ট হয়েছি। যদি অভয় দাও তো বলি।

-ন্যাকা চূড়ামণি! ঝেড়ে কাশোতো! কোন রাস্তা সপ্নে দেখলে?

-যদি রেগে যাও ... বলা ঠিক হবে কি? থাক্‌ তবে...

-রাগার মতো কথা বলবে, আর আমি রাগবো না ... মামার বাড়ী?

-না মানে , বলছিলাম কি রাগতেই পারো ... রাগ নিয়ন্ত্রণ করার কথা বলছিলাম আর কি ...

-অত ভ্যানাচ্ছো কেন? বলবে তো বলো ... শুনি তোমার সপ্নাদৃষ্ট রাস্তা কি?

-বলি তাহলে... বলেই ফেলি ... না বললে কাকেই বা বলব? শোনোই তাহলে ... মনে করো ‘আমি মৃত’। কল্পনা কর আমি বেঁচে থাকলে এই ভাবে তোমার চোখের সামনে থাকতাম ... মানে, ঘুর ঘুর করতাম বা কথা বলতাম। কল্পনা কর যে আমার বেঁচে থাকাটা তোমার কল্পনা। সেক্ষেত্রে তোমার ইচ্ছেগুলো, যা আমাকে ঘিরে তা জানতে পারতাম অন্যভাবে।

যেমন ধর, তুমি জোরে জোরে চিন্তা করছো ... ‘এই পাঞ্জাবীটা পরলে আমার আরাম লাগতো’... তোমার কল্পনায় আমি মরে গিয়েও বেঁচে আছি ... তোমার ‘ভাবনা’ শুনতে পাবো। অন্য দিকে আমিও আমার কল্পনাতে ‘তুমি নেই’ ভেবে ... কল্পনা করব ‘যেটা পরে আছি, সেটা তোমার পছন্দের পাঞ্জাবী’ ... তুমি বেঁচে থাকলে আনন্দ পেতে... এই ভেবে তোমার পছন্দের প্রতি আমার সমর্থণ থাকবে। মৃত স্ত্রীর প্রতি স্বামীর শ্রদ্ধা থাকাটা সামাজিক ভাবে স্বাস্থ্যকর অবস্থান ... স্বামীর প্রতি স্ত্রীরটাও।

-বুঝলাম, দ্বিতীয়টা কি?

-না মানে, আমি যা বললাম তা মানছো কিনা আগে সেটা জানা দরকার। তারপর দ্বিতীয়টা বলবো। আমি কল্পনায়, তোমার যে ভিসিডিটা করেছিলাম সেটাই যেন আমার সামনে ত্রিমাত্রিক ঘটনাক্রম মনে হচ্ছে... এটা মানতে পারছো তো?

-কি এক কথা ধানাই-পানাই করছ? তারপর কি?

-হ্যাঁ যা বলছিলাম, দ্বিতীয় রাস্তাটা হলো ... বলেই ফেলি ... রাগটা নিয়ন্ত্রণ ... হ্যাঁ কি বলছিলাম? কথাটা হলো গিয়ে ... তোমাকে আমার স্ত্রী না ভেবে পাশের বাড়ীর ... মানে ইয়ের স্ত্রী ভাবতে হবে। তোমার দিক থেকেও – আমাকে তোমার স্বামী না ভেবে, পাশের বাড়ীর ইয়ে ভাবতে হবে।

-তা তো ভাবতে হবেই! তোমার তো সোনায় সোহাগা হবে! বলি মতলবটা কি? পাড়ায় ঢি ঢি না ফেলে ছাড়বে না?

-আহাঃ শোনই না! পাশের বাড়ীর ইয়ে বা ইয়ের স্ত্রী ভাবলে তোমার আমার সম্পর্কটা ... ইয়ে মানে ছাড়ো ... ছাড়ো ... ধরো ... ধরো ... গোছের হবে না? ভাবো একবার, তখন আমাদের কত কাজের মধ্যে আরো একটা কাজ বাড়বে ... মানে দুজনের মন বুঝে চলার একটা দায় থাকবে ... অবশ্যই স্টা হবে স্বতস্ফূর্ত ... এখন যেমন হয় আর কি? সামাজিক আব্রুটা তো থাকবে। আব্রু ওঠানো মুখটা ... আর কিছু না হোক ভদ্র ভাবে দুজন দুজনকে দেখাবো... আর তাতেই কাজ হবে। শ্রদ্ধা না থাকলেও চলবে। স্বাভাবিক নিয়মে তোমাকে ইয়ে বা আমাকে ইয়ে ভেবে অনুনয়, বিনয়, উপরোধ, অনুরোধ করবো ... এই ব্যাপারটা মশলা হিসাবে থাকবে ... ব্যবহারটা অনেকটা সুরে গান গাওয়ার মতো হবে ... ‘ওগো আমার প্রিয়, তোমার রঙ্গিন ঊত্তরীয়’ ... কিংবা ‘পড়ো পড়ো মালা – গলে পড়ো’ ... জাতীয় কিছু একটা হবে।

বোঝার চেষ্টা করছি প্রিয়ার প্রতিক্রিয়া। ওমা! হাসছে যে!মনে হোচ্ছে প্রস্তাবটা মনে ধরেছে। কে জানে বাবা এরপর কি হবে। এই বেলা আমার সট্‌কানো দরকার। চটি পা গলাতে গলাতে বললাম, -একটু বেড়োচ্ছি।

ভেবেছিলাম, শুনবো কি হলো, কোথায় যাচ্ছ?না সেরকম কিছু শুনলাম না। তার পরিবর্তে শুনলাম যা, তাতে ধড়ে প্রান এলো।

-কেউ ফোন করলে, কি বলব?

-বলো, সারে আটটা পর ফোন করতে।

-তুমি কি বাজারের দিকে যাচ্ছ? যদি ওদিকে যাও তো মুদীর দোকান থেকে মাসকাবারী জিনিষ গুলো আনতে পারবে?

-(মনে হচ্ছে ওষুধ ধরেছে … এটা যে প্রিয়ার গলা তা প্রায় ভুলতে বসেছিলাম!) টাকা দেওয়া আছে?

না ণিয়ে যাও। বড় ব্যাগটা নিয়ে নিও।

-আচ্ছা।

-বেশী দেরী করো না।

উঁহু বাবা, দেরি কেন করবো? পাশের বাড়ীর ইয়ে যে।


Sudip Basu - Washington Bangla RadioSudip Basu - WBRi Online Bangla MagazineSudip Basu lives in Shrirampur, Hoogly,W.B. with his family. A Psychologist by profession working at A.Y.J. National Institute for the Hearing Handicapped, ERC, Kolkata since 1989. Sudip is also an avid music enthusiast, creative writer, amateur photographer, and spends significant time in reading, listening to music, writing, trekking, apart from rendering services for the persons having psycho-social problems on mental health issues. Sudip Basu is one of the earliest supporters and enthusiasts of WBRi, and has provided invaluable inspiration when WBRi was a little one-page web-site with a audio stream looking for a place on the world wide web. Sudip can be reached at kudipbasu [at] hotmail.com.