রবিবারে জেরবার শুকদেব চট্টোপাধ্যায়, রহড়া | Robibare Jerbar - Bengali Short Story by Sukdeb Chatterjee - WBRi Bengali Magazin

SUKDEB CHATTOPADHYAY"Rabibarey Jerbar" is a Bengali short story by Sukdeb Chatterjee of Rahara in unicode Bangla font published in WBRi Bengali Online Magazine section. You can send your creative writing to submissions@washingtonbanglaradio.com for consideration towards publication.


রবিবারে জেরবার

শুকদেব চট্টোপাধ্যায়, রহড়া


রবিবার অফিসের তাড়া নেই, তাই ঘুম ভেঙে গেলেও অমর বিছানাতেই এপাশ ওপাশ লাট  খাচ্ছিল। একটু আগে রমা বেড-টি দিয়ে গেছে আর সঙ্গে জানিয়ে গেছে বাজার থেকে কি কি আনতে হবে তার একটা বড় ফিরিস্তি। যদিও ঘুমের ঘোরে শোনার ফলে তার কোনটাই অমরের মনে নেই।

কয়েক বছর হল অমর উত্তরায়ণ হাউসিং কমপ্লেক্স এর দোতলার এই ফ্ল্যাটটা কিনেছে। সাতশো স্কোয়ার ফুটের ছোট দু কামরার ফ্ল্যাট। ছোট হলেও ফ্ল্যাটটা খারাপ নয়। পূব দক্ষিণ খোলা। আলো হাওয়া যথেষ্ট আসে। অমর শুয়ে শুয়েই পূবের খোলা জানলা দিয়ে পাশের কুণ্ডুদের বাড়ির দিকে চেয়ে ছিল। শরিকি বাড়ি, অনেকে থাকে। সারাদিন খিটিমিটি লেগেই থাকে। সব থেকে অশান্তি হয় সকালবেলায়। আগণ্ডা লোক, কিন্তু বাথরুম মাত্র দুটো। আগেকার দিনের বাড়ির মত, উঠোনের একেবারে শেষ প্রান্তে। একটায় একটু আড়াল করা আছে। ওটা মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত। আর ছেলেদেরটা একেবারেই বে-আব্রু। সকালে দুটোতেই লাইন পড়ে। চাহিদার তুলনায় যোগান কম। ফলে সুযোগ পেলেও ভেতরে বেশিক্ষণ থাকার উপায় নেই। অল্প সময়ের মধ্যেই কাজ সারতে হবে। অনেকটা টোয়েন্টি-২০ ক্রিকেট খেলার মত। অমরের দেখতে বেশ মজা লাগে। সেদিন হঠাৎ দেখে সিধু জ্যাঠা বিড়ি ধরিয়ে দৌড়ে লাইনের সামনে চলে গিয়ে ঘর খালি হতেই ঢুকে পড়ল। লাইনের অনেকেরই তখন এখন-তখন অবস্থা। কিন্তু একে বয়স্ক মানুষ তার ওপর ভেতরে ঢুকে গেছে ফলে সকলে বিরক্ত হলেও আর কিছু করার নেই। কিন্তু ন্যুনতম সময়ের আগেই সিধু জ্যাঠা বেরিয়ে এল। বিড়িটাও তখনও শেষ হয়নি।  মাথা ঝাঁকাতে ঝাঁকাতে ফিরে আসছে। বোঝা যাচ্ছে, প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। এ যেন সেঞ্চুরির বাসনা নিয়ে মাঠে নেমে শূন্য রানে ফিরে আসা এক ব্যাটসম্যান।

---কিগো, রোববার বলে কি বিছানাতেই সারাদিন কাটাবে ? বাজার টাজার করবে না?

অমর ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখে আটটা বাজে। না এবার উঠতে হবে। হাত মুখ ধুয়ে সকালের ফিরিস্তিটা আর একবার রমার কাছে শুনে নানান সাইজের দু তিনটে ব্যাগ নিয়ে বাজারের দিকে এগোল। ঘুরে ঘুরে বাজার করা অমরের একদম পছন্দ নয়। কাঁচা আনাজপাতি হয় দিলীপ  নয়ত রাখালের কাছ থেকে কেনে। ওখানে কোনটা কতটা লাগবে বলে ব্যাগ রেখে মাছের বাজারে যায়। অমর আড্ডা প্রিয় মানুষ। অন্য দিন গুলোয় সেরকম সময় পায় না। তাই রবিবার বাজারে নানান জনের সাথে গল্প করে, আড্ডা মেরে অনেকটা সময় কেটে যায়। সেদিন দিলীপের দোকান থেকে একটু এগোতেই দেখে  রমেন বাবু বাজার করছেন। মজাদার মানুষ। দোকানে আনাজের সাথে আম, কলার মত কিছু  ফলও রয়েছে। দোকানদারের সাথে কথোপকথনটা কানে এল।

---হ্যাঁ রে বাবা, ওগুলো গাছপাকা তো ?

---হ্যাঁ বাবু, এক নম্বর হিমসাগর। ভোলা ঘোষের বাগান থেকে আজই পাড়া।

---আম তো চাই না বাবা, পটল গুলোর কথা জিজ্ঞেস করছিলাম।

দোকানদার হেসে বলে—কি যে বলেন বাবু।

অমরকে দেখতে পেয়ে উঠে এলেন। 

---ভায়া কেমন আছ ? আজকাল তো আর তোমার সাথে দেখাই হয় না।

ভদ্রলোকের সব ভাল, কিন্তু একবার বকতে শুরু করলে থামতে চায় না। একেবারে সামনা সামনি পড়ে গেছে, একটু না দাঁড়ালে খারাপ দেখায়।

---আসলে রোববার ছাড়া তো আর সময় হয় না।

---তা তো ঠিকই। তোমরা হলে গিয়ে কাজের মানুষ , সময় পাবে কোথায় ?

বুড়ো খোঁচা মারল কিনা অমর ঠিক বুঝতে পারল না। যাইহোক, সেদিন ওনার বাড়ি যাওয়ার তাড়া ছিল বোধহয় তাই অল্পেতেই নিষ্কৃতি দিলেন।

ভোলা এই সময়টায় বাজারে টহল দেয়। অনেক দোকানেই ওর জন্য দৈনিক কিছু বরাদ্দ থাকে। কিন্তু অত বড় শরীর, খিদে সহজে মেটে না। তাই বরাদ্দের পরেও পেটের তাগিদে একটু উঞ্চবৃত্তি করতেই হয়। সুযোগ পেলেই এটা ওটা টেনে নেয়। রমেনবাবুর সাথে কথা বলার ওইটুকু সময়ের মধ্যেই ভোলা কাজ সেরে নিয়েছে। ঘণ্ট খাবে বলে অমর পালং শাক আর মুলো কিনেছিল। একটানে প্রায় সবটাই তুলে নিয়েছে। চোখ বন্ধ করে শাকগুলো চিবোতে চিবোতে পাশ দিয়ে যাবার সময় ‘কিরকম দিলাম’ গোছের কিছু বোঝাবার জন্য ল্যাজের একটা ঝাপটা দিয়ে গেল।  কিছু বলার নেই। ছুটির বাজারে এমন মজার ঘটনা অনেকেই তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করল। সাইকেলে যেতে যেতে একজন বলে গেল—মন খারাপ করবেন না, আপনার বাজারে আজ মহাদেব তুষ্ট হয়েছেন। কম ভাগ্যের ব্যাপার।
কথাগুলো বলেই খ্যাঁক খ্যাঁক করে হাসতে হাসতে চলে গেল।

অমর খিঁচিয়ে উঠল—অতই যখন ভক্তি তখন দে না শালা ব্যাগ ভর্তি বাজার এনে ভোলার মুখে গুঁজে।

যার উদ্দেশ্যে বলা সে তখন অনেক দূরে চলে গেছে। এরপর তপার কাছ থেকে মাংস আর কেশবের থেকে দু এক রকমের মাছ নিয়ে বাড়ি ফিরল। 

---কিগো আনাজপাতি এত কম এনেছ কেন ?

---আরো অনেক ছিল।

---ছিল তো গেল কোথায় ?

---শিবের গব্ভে।

পুরো ঘটনা শোনার পর রমাও হেসে কুটিপাটি। স্বামীর বিপত্তির কথা শুনে বউয়েরই যদি এমন আনন্দ হয় তাহলে রাস্তার লোকেরা তো মজা করবেই।

---শোন, ঘণ্ট খাওয়াতো আজ আর হল না মাংসটা বেশ রোখাল করে বানাও তো।

---দুপুরের ব্যাপারে পরে ভাবব, এখন হাত ধুয়ে এসে জলখাবার খেয়ে নাও। 

প্লেটে ফুলকো লুচি আর ফুলকপির তরকারি দেখে সকালের ঘটনা ভুলে মনটা আবার প্রফুল্ল হয়ে উঠল। খেতে বসতে না বসতেই ল্যান্ড ফোনটা বেজে উঠল। রমা রান্না ঘরে, অমর গিয়েই ফোনটা তুলল। শ্বশুর বাড়ির থেকে ফোন। রমার ঠাকুমা কিছুক্ষণ আগে গত হয়েছেন। নব্বইয়ের ওপরেই বয়স হয়েছিল। আগে বেশ কবার যাই যাই করেও টিকে গিয়েছেন, এবারটা আর সামলাতে পারলেন না। বিরক্ত হয়ে অমর ভাবে, সপ্তাহে সাতটা দিন তার মধ্যে রোববারটাই ওনার পছন্দ হল। ছুটির দিনে একটু ভালমন্দ খাওয়া, বিশ্রাম সব গেল।

---কার ফোন গো ?  রান্নাঘর  থেকে রমার গলা।

---রেডি হয়ে নাও, বেরোতে হবে।

---এখোনো রান্না বান্না শেষ হয়নি কোথায় ঘুরতে যাব ?

---ঘুরতে নয়, তোমার ঠাকুমার শরীর খারাপ, যেতে হবে। 

রমা বাড়ির একমাত্র মেয়ে, ঠাকুমার আদরের নাতনী।

খুব উতলা হয়ে জিজ্ঞেস করল--কি হয়েছে ?  

---কি হয়েছে কি করে বলব, আমি কি ডাক্তার ? তুমি তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে নাও।

অল্প সময়ের মধ্যেই একটা ব্যাগে দু একটা জামাকাপড় ও টুকটাক কিছু জিনিস ভরে রমা তৈরি হয়ে এল। রাস্তায় এসে একটা মোটামুটি ফাঁকা বাসে রমাকে নিয়ে তাড়াতাড়ি উঠে পড়ল।

কিছুটা বিরক্ত হয়ে রমা বলল--- ট্যাক্সি নিলে না কেন ? বাস কখন পৌঁছবে কোন ঠিক আছে। তোমার কোন কাণ্ডজ্ঞান নেই।
কাণ্ডজ্ঞান আছে বলেই তো বাসে উঠেছে। মারাই যখন গেছে তখন খামোখা ট্যাক্সিতে উঠে পয়সা নষ্ট করার কোন মানে হয়।
মুখে আশ্বাস দিয়ে বলল---রাস্তা ফাঁকা, বেশিক্ষণ লাগবে না। 

বৃদ্ধা যথেষ্ট পরিণত বয়সে মারা গেছেন আর অনেক দিন থেকে ভুগছিলেন। শোকে ভেঙে পড়ার মত কোন ঘটনা নয়। অমররা যখন বাড়িতে ঢুকছে তখন কান্নার সামান্যতম আওয়াজও কানে আসেনি। এসব ক্ষেত্রে সাধারণতঃ একেকবার বাইরে থেকে আত্মীয় পরিজন আসে আর শোক, সম্মিলিত ভাবে  সশব্দে উথলে ওঠে। রমা তো বাড়ির মেয়ে। ঘরে ঢুকতেই ওকে জড়িয়ে ধরে কান্নার কোরাস শুরু হল। তখনও অনেক আত্মীয় স্বজন আসা বাকি। বেরোতে বেরোতে আরো দু তিন ঘণ্টা মানে প্রায় তিনটে সাড়ে তিনটে বাজবে। অমর বারান্দায় একটা চেয়ার নিয়ে বসল। ওরা আসার পর কিছুটা সময় কেটে গেছে, সাথে সাথে কেটে গেছে শোকের বাতাবরণও। নিজেদের মধ্যে বেশ গল্প গুজব হচ্ছে। আলোচনা ঠাকুমা থেকে শুরু হয়ে রমা অমরের বিয়েতে কত আনন্দ ফুর্তি হয়েছিল তাতে চলে গেছে। অমরকে সকলে চিনলেও অমর সকলকে চেনে না বা হয়ত ভুলে গেছে। তাই মুখে বোকা বোকা হাসি লাগিয়ে বসে আছে। কিছুক্ষণ আগে যে রমা কেঁদে লুটিয়ে পড়েছিল সেও বেশ হাসিমুখে আসরে যোগ দিয়েছে। আবার নতুন কোন লোক  না আসা অব্দি এই আনন্দ মুখর পরিবেশটা বজায় থাকবে।

একটা সিগারেট না খেলেই নয়। অমর বাড়ির বাইরে এসে সিগারেট ধরাল। খিদেও পেয়েছে। পাবে নাই বা কেন ! সেই কোন সকালে জলখাবার খেয়েছে। তাও কি, দুটো লুচি খাওয়ার পরেই তো ফোনটা এল। ব্যাস, ওখানেই শেষ। আর একটাও লুচি পাতে পড়েনি। শ্বশুর বাড়ি থেকে খানিকটা দূরে একটা রেস্তরাঁয় গিয়ে ঢুকল। দারুন গন্ধ বেরোচ্ছে।

---খাবার দাবার কি আছে ?

---চিকেন কষা, মাটন কষা, এগ কারি, পরোটা, চাউ, ভাতের থালি... যে রকম চাইবেন স্যার।   বছর তের চোদ্দর একটা ছেলে গড়গড় করে মুখস্থ বলে গেল। মাটন কষা আর পরোটার অর্ডার দিতে যাবে এমন সময়

---বডি কি বেরিয়ে গেছে ?

অমর হাঁ করে লোকটার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে।

---আপনি মুখুজ্জে বাড়ির জামাই না ?

---হ্যাঁ।

না আজ ভালো খাওয়া ভাগ্যে নেই, না হলে শ্বশুর বাড়ি থেকে এতটা দূরে এই আপদ এসে জুটবে কেন ? শোকের বাড়িতে এসে জামাই মাংস প্যাঁদাচ্ছে এ খবর চাউর না হওয়াই ভাল।

---দুটো টোস্ট আর চা দাও।

চিকেন মাটনের ফিরিস্তির পর চা আর টোস্টের অর্ডার শুনে ছেলেটা একটু অবাক হল।

---আমাকেও চা আর টোস্ট দে। ...আগন্তুকও একই অর্ডার দিয়ে খেঁজুরে আলাপ শুরু করল।

---আমি ডেকরেটার। ও বাড়ির কাজকর্ম সব আমিই করি। তোমাদের বিয়ের লাইট প্যান্ডেল সব আমারই ছিল।

তাই মালটাকে অমরের চেনা চেনা লাগছিল। জামাই নিশ্চিত হতেই কেমন আপনি থেকে তুমিতে চলে এল। শ্রাদ্ধের অর্ডারটা কনফার্ম করতে এসেছে। তা যেখানে গেলে কাজ হবে সেখানে যা না বাবা, এখানে মরতে এলি কেন ! যতই বিরক্ত হোক জামাই বলে কথা, ওর খাবারের দামটাও অমরই দিল।

কপাল খারাপ থাকলে কোন কিছুই ঠিকঠাক হয় না। মিনিট পাঁচ সাত পরে আসায় শ্মশানে লাইনের চার নম্বরে চলে গেল। অফিসের লোকগুলো বলছিল--- অনেকক্ষণ কোন বডি আসেনি, আপনারা পরপর চারজন এলেন।

কপাল, পাক্কা তিন ঘণ্টা অপেক্ষা। এতটা সময় শ্মশানে কাটানোটাই একটা সমস্যা। অমর গঙ্গার ধারে একটা চাতালে গিয়ে বসল। কিছুক্ষণের মধ্যেই মর্কট ডেকরেটারটাও পাশে এসে বসল। নিজের পেশার নানান ঘটনা অমরকে শোনাতে লাগল। নাম ভগিরথ, পাড়ায় প্যালা নামেই খ্যাত। বেড়ে নাম। 

---জামাই, আমার আর একটা পরিচয় তো বলা হয়নি। ক্লাস ফাইভ অব্দি আমিই ছিলাম রমার গৃহ শিক্ষক।

চমকে উঠে অমর বলল ভাবা যায় না--- একই হাতে ম্যারাপ বাঁধছেন আবার হাতে খড়িও দেওয়াচ্ছেন।

বিগলিত হয়ে প্যালা বলল---হেঁ হেঁ আরো অনেক কিছুই করি তবে কিনা নিজের কথা নিজের মুখে বলতে সংকোচ হয়। জামাই তুমি বস আমি একটু আসছি।

অমর দেখল লোকটা উঠে গিয়ে শ্বশুর মশাইয়ের সাথে কথা বলছে। কিছুটা পরে ফিরে এসে বলল—জামাই, তুমি বস আমি চলি। শ্রাদ্ধের দিন দেখা হবে।

অমর বুঝল শ্বশুরের সাথে প্যান্ডেলের ব্যাপারটা ফাইনাল করে এল। শ্মশান থেকে ফিরতে বেশ রাত হয়ে গেল। ইচ্ছে থাকলেও এত রাতে আর বাড়ি ফেরা যাবে না। বাড়ি ঢুকতেই শাশুড়ি  পরম স্নেহে বললেন---আহা চোখ মুখ বসে গেছে। খুব খিদে পেয়েছে ত। যাও বাবা হাত মুখ ধুয়ে আগে খেয়ে নাও। অমরের সত্যিই খুব খিদে পেয়েছে। হাতে  মুখে জল দিয়ে তাড়াতাড়ি খাবার টেবিলে গিয়ে বসল। সামনে সাজান দুধ, সাবু, ফল আর মিষ্টি। খাবারের দিকে তাকিয়ে খাওয়ার ইচ্ছেটাই চলে গেল। নামমাত্র একটু মুখে দিয়ে ঘরে গিয়ে শুয়ে পড়ল। পাশের ঘরে তখন গল্পের মস্ত আসর বসেছে। মাঝে মাঝেই হাহা হিহি আওয়াজ ভেসে আসছে। সদ্য কাছা নেওয়া শ্বশুর মশাইও ঐ আসরে রয়েছেন। আর রমা তো মধ্যমণি। অমর শুয়ে শুয়ে ভাবে, অন্তরে যেখানে শোকের লেশমাত্র নেই সেখানে  কেবলমাত্র লোকলজ্জার ভয়ে খাদ্যে আর বস্ত্রে এই কদিনের কৃচ্ছ সাধনের কি প্রয়োজন!  


Enhanced by Zemanta