অন্য চোখে পুজো - তারক ঘোষ | Durga Puja from a Different Perspective - By Tarak Ghosh

By Tarak Ghosh
The following article is in Unicode Bengali font. Tarak Ghosh is a writer and a journalist, managing editor of NEWS3, and former journalist for the Bartaman, the Telegraph and other dailies and journals.

You can send your creative writing to submissions@washingtonbanglaradio.com for consideration towards publication.

আজ পঞ্চমী। রাত পোহালেই বেজে উঠবে ষষ্ঠীর ঢাক।এদের দুচোখ জুড়ে থাকবে শিউলি ফুলের মত মুঠো মুঠো ভাত আর হেমন্তের রোদের মত একহাতা ডালের স্বপ্ন ... অন্য চোখে পুজো। দেখেছেন  তারক ঘোষ।


তারক ঘোষ, কলকাতা

Kolkata Durga Puja - Panchami

প্রদীপের নিচে অন্ধকার থাকে,এটাই সত্য।তবু মাঝে মাঝে সেই অন্ধকারও কোথায় যেন হারিয়ে যায়।ঠিকরে আসা অল্প আলো প্রদীপের নিচে জমে থাকা অন্ধকারকে সাময়িক ছুটি দেয়।

ওরা অন্ধকারে থাকে।আলোকময় নাগরিক জীবন থেকে অনেক নিচে,যেখানে শিক্ষার আলো নেই ,নেই আলোকজ্বল ভবিষ্যতের কোন নিশানাও।

ফুটপাতের মাটির হাঁড়িতে ফুটন্ত ভাতের গন্ধে ওরা জীবনের মানে খোঁজে। পুজোর আগে হটাৎ পাওয়া পুরানো পোষাক নতুন হয়ে হেসে ওঠে ওদের সর্বাঙ্গে।

উত্তর কলকাতা, দক্ষিণ কলকাতা, মধ্য কলকাতা, শপিং মলের কলকাতা আর তার মাঝে কোথাও যেন লুকিয়ে থাকে এক অন্য কলকাতা- সব হারানো মানুষের এক কল্লোলিনী তিলোত্তমা।

ষষ্ঠী থেকে নবমী- এদের জীবনে এক অন্য মাত্রা আনে।একঘেয়ে জীবনের রোজনামচা যায় বদলে।শারদীয়ার হালকা রোদ্দুর এদের জীবনেও ক’টা দিন প্রতিফলিত হয়।

শহর কলকাতার বড়ো বড়ো মণ্ডপগুলিতে এই কদিন থাকে নরনারায়ণ সেবার আয়োজন। কোথাও ষষ্ঠীর দিন, কোথাও সপ্তমী, কোথাও বা অষ্টমী-নবমী। কোন কোন পূজামণ্ডপে থাকে বস্ত্র বিতরণের আয়োজন।কলকাতার ফুটপাথ যাদের জন্মস্থান, বেঁচে থাকা আর বেড়ে ওঠার এক অস্থায়ী ঠিকানা, সেখানেও খবর আসে। আর তারপরই প্রদীপের নিচে থাকা অন্ধকারটাও হটাৎ আলোর নিশানা খুঁজে পায়।

এই শহরের অলিতে গলিতে, ফুটপাথে, রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্মে কিংবা রেললাইন লাগোয়া ছোট ছোট পলিথিনের ঝুপড়িতে থাকে অসংখ্য পরিবার। কারোও পেশা ভিক্ষা, কেউ বা পকেটমার, কেউ বা শ্রম বিক্রি করে দিনের শেষে নিয়ে আসে বেঁচে থাকার রশদ। এভাবেই এদের জীবন কাটে।

পুজো এলে এরা থিম নিয়ে ভাবে না, ভাবে না কোন সেলিব্রিটি কোন পুজোর উদ্বোধন করলেন, ভাবে না মণ্ডপ কিংবা আলোর কোন নতুন সজ্জা এবার জিতে নিচ্ছে সেরার শিরোপা। এরা শুধু খোঁজ রাখে কোন পূজামণ্ডপে ব্যবস্থা হবে নরনারায়ণ সেবার- চার দিনের পেটভরা ভোজ।

তাই পুজো এলে এরাও হেসে ওঠে, দূরে সরিয়ে রাখে জীবনের অন্ধকারকে। বুঝতে পারে আলোকময় নগর কলকাতার ওরাও অংশীদার।

গ্রাম থেকে সর্বস্ব খুইয়ে এরা আসে কলকাতায়। কেউ রুজির টানে, কেউ বা ভাগ্যটাকেই সঁপে দেয় ফুটপাথের জীবনে। পুজোর সময় ফুটপাথে দাঁড়িয়ে থাকে নতুন প্রজন্মের ফুটপাথ-শিশু।এদের নতুন চোখে ধরা দেয় চলমান উৎসবের রংছবি। ওরাও ভাবে মা আসছেন। হয়ত মা আসছেন দারিদ্র নামক অসুরটাকে বধ করার জন্য।তাই এই কদিন ওরা হাসে।

আজ পঞ্চমী। রাত পোহালেই বেজে উঠবে ষষ্ঠীর ঢাক।এদের দুচোখ জুড়ে থাকবে শিউলি ফুলের মত মুঠো মুঠো ভাত আর হেমন্তের রোদের মত একহাতা ডালের স্বপ্ন।এরা হেসে উঠবে নদীর ধারে অযত্নে বেড়ে ওঠা রাশি রাশি কাশফুলের মত এক অনাবিল হাসি।