জানবাজারে রানি রাসমণির বাড়ির পুজো | The Historic Durga Puja of Rani Rashmoni's House at Janbazar in Kolkata

By Tarak Ghosh
The following article is in Unicode Bengali font. Tarak Ghosh is a writer and a journalist, managing editor of NEWS3, and former journalist for the Bartaman, the Telegraph and other dailies and journals.

You can send your creative writing to submissions@washingtonbanglaradio.com for consideration towards publication.


Durga Pratima (Idol) at Rani Rashmoni Bari Bonedi Durga Puja in Kolkata
রানি রাসমণির বাড়ির দুর্গাপ্রতিমা

বয়ে যাওয়া সময়ের ছাপ এ বাড়ির সর্বাঙ্গে, কেটে গেছে পুজো শুরুর পর সুদীর্ঘ ২৩৫ বছর, তবু আজও দালানের সিঁড়ির পাশে শিউলি গাছে ফুল ফোটে,ঝুলে ঢাকা ঝাড়লন্ঠন চুপি চুপি বলে, মা আসছেন….. লিখেছেন তারক ঘোষ,  তথ্য সংগ্রহ জয়া বন্দোপাধ্যায়।

দক্ষিণেশ্বরের ভবতারিণী মন্দির আর ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণদেবের সঙ্গে যার নাম আজও উচ্চারিত হয়, তিনি হলেন কলকাতার জানবাজারের রানি রাসমণি। তাই কলকাতার বনেদি বাড়ির পুজোর কথা উঠলেই এসে পরে ১৩ নং রানি রাসমনি রোডের রাসমনি কুঠির পুজোর কথা।দীর্ঘ ২৩৫ বছরের পথ অতিক্রম করে এই পুজো আজও বাঙালির ঐতিহ্যের পুজো।কথিত আছে রানি রাস্মণির শ্বশুরমশাই প্রীতিরাম দাস ২৩৫ বছর আগে এই পুজোর প্রবর্তন করেন।

যদিও সময়ের ছাপ রানি রাসমণির বাড়ির সর্বাঙ্গে, তবু ভক্তি-রীতি-রেওয়াজ আজও সেই প্রথম পুজোর ধারাকে বয়ে নিয়ে চলেছে।

জানা গেছে,এখানে প্রতিমার কাঠামো পুজো হয় রথের দিন।তারপর থেকেই শুরু হয়ে যায় পুজোর প্রস্তুতি।ঠাকুর দালানের বেদির পাশে তৈরি হয় একচালার মূর্তি।উচ্চতায় প্রায় ১৪ ফুট,প্রতিমার গায়ের রঙ কখনও শিউলি ফুলের বোঁটার মত,কখনও বা তপ্ত সোনার বর্ণ।অসুরের গায়ের রঙ সবুজ।

বোধন ঘরে প্রতিপদ থেকে ষষ্ঠীর সকাল পর্যন্ত চলে ঘট পুজো। তারপর সন্ধ্যায় বেলগাছের নিচে দেবীর বোধন।সাবর্ণ চৌধুরীর পুজো যেমন ত্রিধারা মতে হয়, এই বাড়ির পুজো হয় শাক্ত মতে।

একসময়, নবমীর দিন ছাগ বলি হত।কিন্তু পরিবারের আপত্তিতে ৯ বছর আগে বন্ধ হয়ে গেছে এই প্রথা।বর্তমানে চালকুমড়ো কিংবা আখ বলি হয়।

বাড়িতেই তৈরি হয় মায়ের ভোগ।নৈবেদ্যে দেওয়া হয় কখনও ১৬, কখনও বা ১৯ রকমের উপকরণ।অষ্টমী পর্যন্ত নিরামিষ রান্না হলেও নবমীর পর আমিষ রান্না হয়।

দশমীর দিন প্রতিমা নিরঞ্জনের আগে দেবীবরণ করেন বাড়ির স্ত্রীলোকেরা, দেবীর পায়ে পরানো হয় আলতা।তারপর ঠাকুর দালান থেকে প্রতিমা নামানো হয়। এরপর বরণ করেন পাঁচ জন ব্রাহ্মণ। তারপর শুরু হয় বিজয়ার তোড়জোড়।

এখন এই বাড়িতে চলছে পুজোর ব্যস্ততা। প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ।রং হচ্ছে সময়ের দাঁত বসানো বাড়ির দেওয়াল-কড়ি-বরগায়।যে বাড়ি একসময় গমগম করত মথুরবাবুর কন্ঠস্বরে, যে বাড়ির ঠাকুর দালানে এসে দাঁড়াতেন রানিমা, আজ সেখানে শুধুই হারিয়ে যাওয়া সময়ের কান্না। আর অতীতের স্মৃতি নিয়ে নির্বাক চোখে চেয়ে আছে ঠাকুর দালানের ঝাড়লন্ঠন।