Durga Puja in Kolkata: A Special Feature by Tarak Ghosh

By Tarak Ghosh
The following article is in Unicode Bengali font. Tarak Ghosh is a writer and a journalist, managing editor of NEWS3, and former journalist for the Bartaman, the Telegraph and other dailies and journals.

You can send your creative writing to submissions@washingtonbanglaradio.com for consideration towards publication.



Kolkata Durga Puja

বাড়ির গায়ে কোথাও যেন লেগে থাকে সেই মন কেমন করা এক গন্ধ, কান পাতলে আজও শুনতে পাওয়া যায় বাড়ির কর্তাদের হাঁকডাক। ভেসে আসে ফরাসী আতরের গন্ধ,চোখ বুজলে সেই ঝাড়বাতির রোশনাই আর লাল গরদের শাড়ীর খসখস আওয়াজ, সত্যিই কি হারায়, নাকি হারাতে হয়? লিখেছেন তারক ঘোষ। তথ্য সংগ্রহ জয়া বন্দোপাধ্যায়।বাজলো ….. তোমার আলোর বেণু ...

Kolkata Durga Puja

কুলু কুলু বয়ে যাওয়া গঙ্গায় ভেসে যায় ফুল আর দূর্বা। এভাবেই শেষ হয় পিতৃপক্ষের, আসে দেবীপক্ষ।তখন কোথাও বা ঘরে ফেরার হাতছানি, কোথাও বা মন হারায় পাহাড় আর জঙ্গলের সবুজ ইশারায়। এভাবেই তো বাঙালী  ফিরে পায় তার শৈশব, ফিরে পায় হারিয়ে যাওয়া নাটমঞ্চ,রাতভোর যাত্রাপালা আর কবিগানের আসর। উড়ে যাওয়া নীলকন্ঠ পাখির পাখায় মন কখনো বা বিবাগী, কখনও বা বর্তমানের টানে এই কলকাতায়।

Bonedi Barir Pujo: Historic Shobhabazar Rajbari Durga Puja in Kolkata
শোভাবাজার রাজবাড়ি

সময়ের সঙ্গে তাল রাখতে গিয়ে অনেক কিছুই বদলাতে হয়। এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে এসে যেমন বদলেছে শোভবাজার রাজবাড়ির পুজো। এখানে প্রথম দুর্গাপুজো শুরু হয় ১৭৫৭ সালে।তারপর শুধু সময়ের সাথে বয়ে চলা এক পারিবারিক মিলনের চালচিত্র।এই শোভাবাজার রাজবাড়িতে পা রেখেছেন শ্রীরামকৃষ্ণ,বিবেকানন্দ,ভগিনী নিবেদিতা,প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর, মাইকেল মধূসুদন দত্ত,প্রফুল্লচন্দ্র রায়,বিধানচন্দ্র রায় এবং মাঝে মাঝে বিশ্বকবি।

শোভাবাজার রাজবাড়ির পুজোয় অনেক পরিবর্তন এসেছে।একসময় সন্ধি পুজো শেষ হত কামানের গোলার শব্দে, আজ কামানের পরিবর্তে বন্দুকের শব্দ। বিসর্জনের দিন আকাশে উড়িয়ে দেওয়া হত নীলকন্ঠ পাখি। এখন মাটির পাখিতে প্রাণ প্রতিষ্ঠা করে দেবীর সাথে বিসর্জন দেওয়া হয়। বদলায় আনেক কিছু, কিন্তু বদলায় না উৎসবের মধ্যে পারিবারিক মিলনের সুর যা অতীতের পথ বেয়ে আজও একই সুরে বেজে ওঠে।

তবে বদলায় নি ১০৮ টি সোনার প্রদীপ জ্বালিয়ে সন্ধিপুজোর সেই প্রবহমান ধারা।আজও বাজনা আসে হ্যারিসন রোড থেকে।বদলায় নি ডাকের সাজে প্রতিমাকে সাজিয়ে দেওয়ার সেই পুরানো রীতি।

কলকাতার আরেক প্রাচীন পুজো সাবর্ণ চৌধুরীর বাড়ির পুজো। ১৬১০ সালে লক্ষীকান্ত রায়চৌধুরী এই পুজোর প্রচলন করেন।মুলতঃ প্রজাদের মনোরঞ্জনের জন্যই এই পুজোর উৎপত্তি। প্রজারা যে যা পারতেন তাই নিয়ে হাজির হতেন। চাল-ডাল, সবজ়ি দেওয়া হত মায়ের ভোগের জন্য।

Singhi Park Durga Puja Kolkata Durga Pratima Idol

এখানে দেবীর বোধন হয় কৃষ্ণা নবমীতে। মোট আটটি বাড়িতে পুজো হয়। একটি বাদে বাকি বাড়িতে দেবীর বোধন ষষ্ঠীতে।

সাবর্ণ চৌধুরীর বাড়ির পুজোর বৈশিষ্ট হল, ত্রিধারা সঙ্গমে পুজো অর্থাৎ শাক্ত,শৈব এবং বৈষ্ণব মতে পুজো।দুটি বাড়িতে অষ্টমীর বদলে কুমারী পুজো হয় নবমীতে।একটি বাড়ি বাদে বাকি সাতটি বাড়িতে আমিষ ভোগ দেওয়া হয়। এখানে প্রতিমার রঙ হয় বিধান অনুসারে।শিউলি ফুলের বোঁটার রঙ কিম্বা সোনার রং।আর অসুরের রঙ সবুজ।

তবে সময়ের সাথে এখানেও কিছুটা পরিবর্তন এসেছে।একসময় নবমীর দিন মোষ বা পাঁঠা বলি হত।২০০৭ সাল থেকে বলি বন্ধ হয়ে গেছে। বিজয়ার দিন উড়িয়ে দেওয়া হত নীলকন্ঠ পাখি, তাও আজ স্মৃতি।বিসর্জনের সময় প্রতিমা নিয়ে যাওয়া হত কাঁধে করে। এখন বাড়ির প্রতিষ্ঠিত পুকুরে প্রতিমা নিরঞ্জন করা হয়।

আজও স্মৃতিরা ফিরে আসে বার বার পুরানো বাড়ির পুজো ঘিরে। মন চলে যায় সেই সুদূর অতীতে।বাড়ির গায়ে কোথাও যেন লেগে থাকে সেই মন কেমন করা এক গন্ধ, কান পাতলে আজও শুনতে পাওয়া যায় বাড়ির কর্তাদের হাঁকডাক। ভেসে আসে ফরাসী আতরের গন্ধ,চোখ বুজলে সেই ঝাড়বাতির রোশনাই আর লাল গরদের শাড়ীর খসখস আওয়াজ, সত্যিই কি হারায়, নাকি হারাতে হয়?