WBRi Online Magazine - Creative Writing

বসে থাকো, আধঘণ্টা - বিপ্লব গঙ্গোপাধ্যায়

বসে থাকো সব কথা শুনি

কাফেটোরিয়ার ঐ নিঝুম টেবিল 

                      দুর্লভ বিকেলে ছায়া মেখে দৌড়ে যাব

তোমার নিরন্ন মুখ চেয়ে...

     রোদের বিউটি নেই    ছাই সহ জেগে আছে

ব্যর্থ পাঠশালা

                    বাল্যের ফসল তুলব  পলিমাটি  ছুঁয়ে

 

বসে থাকো আধঘণ্টা

উঠে আসুক আটত্রিশ জীবন

            চৌষট্টি কলায় পূর্ণ পরবর্তী ক্ষণের মহিমা

 বসবে না?

      হাসপাতালের বেড এ শুয়ে আছে

                           কোমাচ্ছন্ন   মা

 সে সব সুখের দিন নেই আর

     ঝরে যাচ্ছে

                 ঝরে যাচ্ছে





বিপ্লব গঙ্গোপাধ্যায় জন্ম – ৬ জানুয়ারি ১৯৭২ , পুরুলিয়া

বাবা -  সুপরিচিত কবি মোহিনীমোহন গঙ্গোপাধ্যায় , মা – গীতা গঙ্গোপাধ্যায়

শিক্ষা – বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণিতে স্নাতকোত্তর । পেশা – দামোদর ভ্যালী করপোরেশনের  অ্যাসিস্ট্যান্ট কন্ট্রোলার ।

প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ – সুসংবাদ কিনতে যাব  ( প্রতিভাস / ২০১২ )

সম্পাদিত পত্রিকা – কেতকী ।

পুরস্কার ও সম্বর্ধনা – 

সাহিত্য প্রগতি  সম্মান ( ২০১১) | অনুপত্রী সাহিত্য পুরস্কার ( ২০১২ )



সত্য // দেবাদৃতা দত্ত

কোনও কোনও দুঃখের ছাপ আমার চেহারায় পড়ে না  
কিন্তু সেটা আমার দোষ নয় 
মন ভেঙ্গে যায়, গুঁড়ো গুঁড়ো হয় 
তবু, মুখের অভিব্যক্তি বদলায় না- 
সেটা আমার দোষ নয় 
পাড়া-প্রতিবেশী বলে,
আত্মীয়-স্বজন বলে,
চোখের জল নাকি আটকে রাখতে নেই
ওতে অমঙ্গল হয়... 
তাও, মঙ্গল চিন্তায়
গলা ভারি হয় না
থরথর করে কাঁপতে থাকা ঠোঁট কামড়ে ধরি না 
আমার দু’গাল বেয়ে নামে না উষ্ণ প্রস্রবণ 
কিন্তু বিশ্বাস করুন, সেটা আমার দোষ নয় 


মৃতদেহ ঘিরে থাকা জটলার মাঝে, 
বুকফাটা হাহাকার এর মাঝে, 
ধূপ ধুনো আর রজনীগন্ধার মাঝেও
আমি অবিচল দাঁড়িয়ে থাকি 
আর মনে মনে বলি,
‘যে ভালবাসা ছিল, ...আছে, সে তো নশ্বর,  
তাকে ফিরিয়ে নিতে পারব না কোনদিনও’
আমাকে ক্ষমা করবেন,
কিন্তু, এটাও আমার দোষ নয় 
 

 দেবাদৃতা দত্ত বর্তমানে সাংবাদিকতা ও গণসংযোগ বিষয়ে স্নাতকোত্তর স্তরের ছাত্রী । আগে বছর দুয়েক আঞ্চলিক ভাষার সংবাদপত্রে সাংবাদিকতার চাকরি। 

চার বছর বয়সে বাবা-মার কাছে আবৃত্তিতে  হাতেখড়ি । তারপর কবিতার বই থেকে কবিতা গিলতে গিলতে নিজের হাতও নিসপিশ করতে শুরু করল । তখন বোধ হয় ক্লাস ফোর । ব্যস ! সেই যে ভুত ঘাড়ে চাপল, কাব্যরোগের কোনও টোটকাই তাকে নামাতে পারেনি। প্রথমে কাঁচা বয়সে কাঁচা হা্তের লেখা এবং অতি অবশ্যই কাঁচা লেখার হাত । তারপর এতদিন ধরে তাতে একটু আধটু মাঞ্জা লাগানোর চেষ্টা।

কয়েকটা অনুগল্প ছাড়া গল্পের দিকে পা বাড়াইনি । কবিতাই লিখতে ভালোবাসি । শিশু সাহিত্যের প্রতি একটা আলাদা আকর্ষণ আছে । কলকাতা এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার শিশু সাহিত্য মহলে মোটামুটি পরিচিত । ২০০৪ সাল থেকে নিখিল ভারত শিশু সাহিত্য সম্মেলন এর সঙ্গে যুক্ত । আলোর ফুলকি, ঝিলিক মিলিক, রঙ বেরং, কিশোর জ্ঞান বিজ্ঞান, অজগর, শিশুমেলা, চির সবুজ লেখা সহ বেশ কিছু শিশু সাহিত্য পত্রিকায় লেখা প্রকাশিত হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকার, সন্দেশ এবং কিশোর জ্ঞান বিজ্ঞান পত্রিকা আয়োজিত প্রতিযোগিতায় পুরস্কার লাভ।  শিশু সাহিত্যের বাইরে একটু অন্য ধরনের লেখালিখি গত তিন বছর যাবৎ চলছে। ভাল, আরও ভাল, আরও আরও ভাল লেখার চেষ্টায় আছি। আগামী দিনে গল্প এবং উপন্যাস দুটোই লেখার ইচ্ছে আছে । ভালবাসি গল্পের বই পড়তে, আবৃত্তি করতে, গান শুনতে আর  ইস্ট বেঙ্গলকে হারিয়ে মোহনবাগানকে জিততে দেখতে । ভাল না লাগার মধ্যে পড়ার বই এবং মেগা সিরিয়াল ।  

জোছনার রাতে ....... বিমুর্ত কবির

সরিয়ে দিয়েছি নেকাব
তারপরে খুলেছি আবরণ
একে একে সব আভরণ 
লজ্জার বাইরে সাবাব ।
...
পূর্ণ চন্দ্রিমা রাতে
খোলা আকাশের তলে 
গন্ধ বিলায় শতদলে 
সঁপিবো তোমার হাতে । 

দেহের ভাঁজে ভাঁজে আজ
মেনকার উদোম যৌবন 
হেরিয়া ভরিবে মন 
রমণীর নিরাবরণ সাজ । 

কবির স্বপ্নচারিনী ডাকে কারে
আসিয়াছে স্বর্গ হতে 
তোমার এই বসুধাতে 
একবার ছুঁইয়া দেখো তারে ।

কবির উদ্দিন ।কবির | বিমূর্ত কবির বাংলাদেশের শের-ই বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্রাজুয়েট ছাত্র জীবন থেকেই কিছুটা লেখার অভ্যাস । বর্তমানে আমেরিকার ভার্জিনিয়ায়  ব্যস্ত  কর্ম এবং সংসার জীবনে লেখা লেখি মনের তাগিদে ।  কবিতা লিখলেও কবিতার গ্রামার নিয়ে সন্দিহান । ১৯৯৭ সালে ঢাকার একুশে বই মেলায় আমার লেখা একমাত্র গল্পের বই সন্দেশ প্রকাশনী থেকে ছাপা হয়েছে - "ত্রিভুজ |

শীতঘুম ভেঙ্গেছে... ঋতুপর্ণা সরকার

একটা শীত ঘুম ভাঙার প্রতীক্ষায় মগ্ন মন......
শব্দ আজ কানামাছি মাছি খেলছে,
পীচ আর আ্যসফল্টের রাস্তায়
খুঁটে খাওয়া ছায়ারা পায়চারি করে চলে।

একটা ডাকপিয়নের আসার প্রতীক্ষায়
পুরনো চিঠিরা আড়মোড়া ভেঙ্গে যায়......
নতুন খামে নিজেকে লুকোনো বন্ধ।
চিঠিরা আজ পোশাক পরেনা আর!

একটা  মৃত্যুর পিছিয়ে যাবার প্রতীক্ষা
ল্যাম্প পোস্টের তারে পাখিরাও ফুলঝুরি,
জীবন আজ মুক্তগদ্য হলেও
প্রতি শব্দে ছন্দের মোহর।

জানুয়ারি - রঙ্গীত মিত্র


নাম বিশেষের পিছন পিছন ঘোরালো রং-এর গাড়ি।
তার জিপসি রং-এর রাত ;
যেরকম রাতের মালগাড়ি
শহর কাঁপিয়ে আসে।
জামার মতো কিছু
তখন জীবন-আবরক।
তোমার আঙুল ধরে
জেব্রা-ক্রসিং-এ,জানুয়ারি মাস লেখে। 






রঙ্গীত মিত্র আপতত পেশায় মুচি। আমার নতুন নতুন মানুষের সাথ আলাপ  করতে ইচ্ছে করে।যা নিয়ম তার উলটোটা করি। সবার উপকার করতে গিয়ে ল্যাদ খেয়েছিও অনেকদিন।তাও উপকার আমার বার্থরাইট।এবং বার্থডে ঃ ফোর্থ মে ১৯৮৫। প্রিয় শহর ঃ কলকাতা। প্রিয় রং কি সেটা এখনো বুঝে উঠতে পারিনি।তবে ব্যাকডোর ব্যাপারটা দেখলে ঝাঁট জ্বলে গেলেও আমি একটা আতা বলে,হর হর করে বলে ফেলি।  তবে আমার বাবা মা আমার প্রতি খুব বিরক্ত।আমি কোথাও স্থির হয়ে থাকতে পারিনা।এই অস্থিরতা আমাকে অ্যান-স্টেবেল করেছে বলে ফেসবুকই করি। যেকনো দিন-ই কাউন্সিলিং করতে যেতে হবে।কারণ আমাকে বিক্রি করতে হবে , না হলে যে পেটে খাওয়ার জুটবে না।কিন্তু আমার মনে হয় আমার লেখা কেউ পড়েনা। সব সময় হতাশায় ভুগি আর লোকজন হেবি হিংসুটে...আমারই সব খারাপ হয় বলে ভেবেছি সন্যাস নেবো। আসলে ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাস বেশ আছে আমার। আমার যেমন পিটসিগারের গান ভালো লাগে সেরকম-ই যাদবপুর। তবে নাকি আশ্চর্য্যভাবে দেখি খারাপেরাই ক্ষমতা দখল  করে । কিন্তু আমার বাড়ির লোক হেবি ব্যাক ডেটেট।আর আমি এই বুড়োবয়সে পড়তে এসে দেখছি,আমার মতো পাগোল খুব কম।আর বাকী সব মুখোশ পরে আছে। উফ আপনি বল্লেন,"এখানে তো অভিযোগই লেখা।" আসলে হিসু করতে গিয়ে যখন দেখি পকেটে এক টাকা নিয়ে কিম্বা ওষুধের দোকান থেকে কন্ডোম কিনতে ভয় করে...জানি না আমি বোধহয় খুব পিছিয়ে পড়ছি।অথচ আমার যেন মনে হয় আমারা " সব আছে কিন্তু কিছু নেই"-এর জগতে "নাক-খুঁটছি"।তবে আমার খুব ভয় করে।হেরে যাবো না তো? এইবার জানাই একটা চাকরি দরকার।আমি ভাবি আমি সব-ই পারি।কিন্তু আমাকে কেউ চাকরি দেয় না।আমার বই-এর মত অভিজ্ঞতা ডাঁই হয়ে পড়ে আছে।আর স্বপ্নের মাথার চড়ক গাছ থেকে হাচের টাওয়ার স্তনের থেকেও বড় ব্ল্যাকবেরি... অ্যাস্ট্রোলজার বলেই দিয়েছে বদলের খুব প্রয়োজন...যাতে আমি বেঁচে থাকতে পারি...সেই কেমিক্যাল ইঞ্জিনীয়ারিং থেকে বেরিয়ে দেখি তোমার মাথার হেয়ার ব্যান্ডটা হীরে হয়ে গেছে...আর আমার কবিতার বই , "রুমালে বিয়ারের গন্ধ" নিয়ে কলকাতা বইমেলা...ঐ তো আমাকে ডাকছে শব্দরা।আমাকে যেতে দাও,প্লিজ। 

SiteLock